Thursday, April 14, 2011

বাংলা কৌতুক 'প্রেম-ভালোবাসা

আমার স্বামী আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে!
: কী রকম?
: বিয়ের আগে সে বলেছিল, তার বয়স ৯০, স্বাস্থ্য খারাপ আর সে কোটিপতি।
: সে কি কোটিপতি নয়?
: অবশ্যই কোটিপতি কিন্তু বয়স ৬০ এবং স্বাস্থ্য যথেষ্ট ভালো।

২-

পানি খেতে ইচ্ছে করছে না তো

বিবাহে প্রবল অনিচ্ছুক এক লোককে বলা হলো:
সারাটা জীবন একা একাই কাটাবে? ভেবে দ্যাখো, তুমি যখন মরণশয্যায়, তখন তোমার মুখে পানি দেওয়ার মতো কেউ থাকবে না।
কোনো প্রতিযুক্তি দেখাতে না পেরে বিয়ে করতে রাজি হয়ে গেল লোকটা।
অনেক বছর পরের কথা। দীর্ঘ সংসারজীবন যাপনের পর লোকটি বৃদ্ধ অবস্থায় শুয়ে আছে মৃত্যুর অপেক্ষায়। তাকে ঘিরে আছে তার স্ত্রী, পুত্র-কন্যা। শুয়ে শুয়ে সে ভাবছে:
কেন যে বিয়ে করেছিলাম! পানি খেতে ইচ্ছে করছে না তো!


৩-বিয়ের কঠিন সময়
একটি মেয়ের সবেমাত্র বাগদান হয়েছে।
তাঁর অফিসের এক বিবাহিত মহিলা এলেন তাঁকে উপদেশ দিতে।
শোনো, বিয়ের পর প্রথম ১০ বছরই সবচেয়ে কঠিন।
মহিলা বললেন, আপনার বিয়ে হয়েছে কত দিন?


৪-

বিয়ের আগে বাঘ

বনের ভেতর এক বাঘের বিয়ে। সেই খুশিতে বনের সব পশুই নাচ-গান শুরু করেছে। বনের এক কোণায় একটা গাধার নাচ দেখে এক বাঁদর তাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘আরে গাধা ভাই, তুমি অযথা নাচছো কেন?’
গাধা রেগে বলল, ‘এই বনে আজ আমার ছোট ভাইয়ের বিয়ে। আমি নাচবো না তো নাচবেটা কে, শুনি?’
বাঁদর আবারও প্রশ্ন করল, ‘বাঘ আবার কবে থেকে তোমার ভাই হলো?’
‘আরে বাঁদর, বিয়ের আগে আমিও বাঘ ছিলাম। বাঘের ক্ষেত্রেও তো একই ঘটনা ঘটবে। তাহলে সে তো আমার ভাই-ই হবে, নাকি?’—গাধার উত্তর।


৫-বিয়ের প্রস্তাব
বুনো পশ্চিম। এক মেয়ে বলছে তার মাকে, মা, ডার্টি বিলি আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে।
—সে তোমাকে সরাসরি বলেছে এ কথা? মা প্রশ্ন করলেন।
—না, তা বলেনি, তবে ইঙ্গিত দিয়েছে। নিজের বউকে সে ইতিমধ্যে গুলি করে মেরে ফেলেছে।



৬-বিয়ে হয়ে গেছে
দুই বন্ধুর মধ্যে কথা হচ্ছে—
প্রথম বন্ধু: জানিস, আমার আর লিজার বিয়ে হয়ে গেছে।
দ্বিতীয় বন্ধু: তাই নাকি রে! আগে তো বলিসনি। এত দিন প্রেম করলি। তা কবে তোদের বিয়ে হলো?
প্রথম বন্ধু: আমার বিয়েটা হয়েছে এ মাসের ১৬ তারিখ। আর লিজার ২৫ তারিখ।


৭-ই-মেইলে বিয়ে
এক মার্কিন ও এক ভারতীয়র মধ্যে বিয়ে নিয়ে কথা হচ্ছে—
মার্কিন: জানো, আমাদের দেশে বিয়ে ই-মেইলে হয়।
ভারতীয়: বাহ্, খুব ভালো তো। কিন্তু আমাদের দেশে বিয়েটা শুধু ফিমেলের (নারী) সঙ্গেই হয়।



৮-

আপনার বোন মানে আমারও বোন

বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে হাবলু যখন তার নতুন বউ নিয়ে বাসায় ফিরছিল, তখন বউয়ের বড় ভাই কাঁদতে কাঁদতে হাবলুকে বললেন, ‘ভাই, আমার বোনটার দিকে একটু খেয়াল রেখো।’
বউয়ের বড় ভাইয়ের কান্না দেখে হাবলুও কেঁদে কেঁদে বলল, ‘ভাই, আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আপনি তো আমার বড় ভাইয়ের মতো। আপনার বোন মানে আমারও বোন। ও খুব ভালোই থাকবে।’


৯-

বর কেন কালো পোশাক পরেছে

একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মায়ের সঙ্গে বিয়ে দেখতে গেছে বিল্টু। বিয়ে দেখতে দেখতে বউয়ের দিকে তাকিয়ে বিল্টু তার মাকে জিজ্ঞেস করল, ‘আচ্ছা মা, বউ সাদা পোশাক পরে বসে আছে কেন?’
মা বিল্টুকে বললেন, ‘সাদা পোশাক হচ্ছে সুখের প্রতীক, আর আজ বউয়ের জীবনের সবচেয়ে সুখের দিন, তাই সে সাদা পোশাক পরেছে।’
একটু ভেবে বিল্টু আবারও তার মাকে জিজ্ঞেস করল, ‘হুমম বুঝলাম। কিন্তু বর কেন কালো পোশাক পরেছে?’


১০-ঘটা করে বিয়ে আর প্রেম করে বিয়ের মধ্যে পার্থক্য
দুই বন্ধু রঞ্জু আর সঞ্জুর মধ্যে কথা হচ্ছে—
রঞ্জু: বল তো, ঘটা করে বিয়ে আর প্রেম করে বিয়ের মধ্যে পার্থক্য কী?
সঞ্জু: এটা তো খুবই সোজা।
রঞ্জু: আহা বল না।
সঞ্জু: শোন, পার্থক্যটা খুবই সাধারণ। প্রেম করে বিয়ে করলে নিজের প্রেমিকাকে বিয়ে করতে হয়, আর ঘটা করে বিয়েতে অন্যের প্রেমিকাকে বিয়ে করতে হয়।


১১-

স্ত্রী হারিয়ে গেছে

বাজার করার মাঝখানে স্ত্রী রাগ করে চলে গেছে। কিছুতেই তাকে আর খুঁজে পাচ্ছে না তপু। অনেক খোঁজাখুঁজির পর স্ত্রীকে না পেয়ে তপু এক মহিলার হাত ধরে অনুনয়-বিনয় করে বলল, ‘দয়া করে কিছুক্ষণের জন্য আমার সঙ্গে একটু কথা বলবেন?’
মহিলাটি রেগে বললেন, ‘চিনি না, জানি না, আপনার সঙ্গে কথা বলব কেন?’
তপু ভদ্রভাবে মহিলাকে বলল, ‘বাজারের মধ্যে আমার স্ত্রী হারিয়ে গেছে তো!’
মহিলা এবার রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে বললেন, ‘আপনি তো আচ্ছা মানুষ দেখছি। আপনার স্ত্রী হারিয়েছে, তাতে আমার সঙ্গে কথা বলার কী সম্পর্ক?’
‘না মানে, অন্য কোনো মহিলার সঙ্গে কথা বলতে দেখলেই আমার স্ত্রী রেগে আবারও আমার কাছে ফিরে আসবে কি না!’




১২-সাহস
: বিশ্বাস করবে না হয়তে। কিন্তু সত্যি বলছি কাজী সাহেব যখন বিয়ের কলেমা পড়াচ্ছিলেন তখনই সাবের মজলিশ থেকে ছুটে পালিয়ে গেল।
: কেন, শেষ মুহুর্তে সাহস হারিয়ে ফেলেছিল বুঝি?
: না, সাহস ফিরে পেয়েছিল।


১৩-

দাম্পত্য জীবনে সুখী

এক ভদ্রলোককে তাঁর এক বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, দাম্পত্য জীবনে তুমি কি সুখী?
এ কথা শুনেই ওই ভদ্রলোক নিজেকে সুখী দম্পতি হিসেবে দাবি করে বলেছিলেন, ‘আমরা সপ্তাহে দুই দিন নিয়ম করেই রেস্তোরাঁয় যাই। সেখানে রাতের খাবারের পর গান শুনে হাঁটতে হাঁটতে বাসায় ফিরি। বল এটা কি সুখী দম্পতির বৈশিষ্ট্য নয়?’
বন্ধুটি কৌতুহল নিয়ে বললেন, ‘তা তোমরা কবে কবে রেস্তোরাঁয় যাও?’
‘আমি রেস্তোরাঁয় যাই বুধবার আর আমার স্ত্রী যায় শুক্রবার’—ভদ্রলোকের জবাব।


১৪-

টেলিভিশনকে বিয়ে

কফির দোকানে এক তরুণী বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডায় বসেছেন। সবাই বিয়ে নিয়ে কথা বলছেন।
ওই তরুণী বললেন, ‘আমি যে পুরুষকে বিয়ে করব, তাকে অবশ্যই একটি বড় প্রতিষ্ঠানের কেউ হতে হবে। তাকে গান জানতে হবে, মজার মজার গল্প জানতে হবে এবং অবশ্যই রাতে বাসায় থাকতে হবে।’
এ কথা শুনেই পাশ থেকে এক বান্ধবী ফোড়ন কাটলেন, ‘তুমি একটা টেলিভিশনকেই বিয়ে করে ফেল না কেন!’


১৫-

নির্বোধ প্রাণী

জনৈক পশুপ্রেমিক একদিন পথ রোধ করে দাঁড়াল খুব দামি ফার কোট পরিহিত এক মহিলার। সে চিৎকার করে বলতে লাগল-তোমার লজ্জা হয় না এই ফার কোট পরতে? তুমি জান না তোমার গায়ে এই কোটটা চাপানোর জন্য একটা নির্বোধ প্রাণীকে কত কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে?
‘আর আমি? আমার দিকটা কেউ ভাবে না ! আমাকে যে এটা বাগানোর জন্য ওই নির্বোধটার সঙ্গে দুই মাস একনাগাড়ে ডেট করতে হয়েছে …’ মহিলাটিও চিৎকার করে আত্মপক্ষ সমর্থন করল।


১৬-

বিয়ের চিন্তা ত্যাগ

: শোন, আমাকে বিয়ে করতে হলে তোমাকে কিছু জিনিস ত্যাগ করতে হবে ।
: যেমন ?
: এই ধর রোজ সন্ধ্যার পর ক্লাবে যাওয়া বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে অহেতুক আড্ডা, সিগারেট খাওয়া, রাতে নাক ডাকা, বোকার মতো টাকা খরচ করা, খামাখা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া …কী পারবে এসব ত্যাগ করতে?
: দেখি ভেবে দেখতে হবে।
পরদিন আবার দু’জনের দেখা।
: কী ভেবেছ ?
: আসলে একবারে তো আর সব কিছু ত্যাগ করা যায় না … একটু একটু করে আর কি। যেমন প্রথমত একটা জিনিস ত্যাগ করেছি।
: কী ?
: ইয়ে মানে…আপাতত বিয়ের চিন্তাটা।

১৭-দিনগুলো ছিল বড় সুখের
দুই বন্ধু গল্প করছে।
: বিয়ের পরের দিনগুলো ছিল বড় সুখের।
: কী রকম?
: অফিস থেকে বাড়ি ফিরতেই আমার ছোট কুকুরটা চেঁচামেচি জুড়ে দিত আর তার পেছন-পেছন হাসিমুখে আসত আমার স্ত্রী। তার হাতে থাকত আমার চটি-জুতা।
: আর আজকাল?
: আজকাল বাড়ি ফিরলে চটি-জুতো মুখে করে আনে কুকুরটা আর পেছনে চেঁচাতে-চেঁচাতে আসে আমার স্ত্রী।


১৮-বিয়ে ও ডিভোর্সের কারণ
আসাদঃ আমি বিয়ে করলাম কেন, জানিস?
সাগরঃ কেন রে?
আসাদঃ আরে! রান্নাবান্না, জামাকাপড় কাচা, বাড়িঘর পরিষ্কার করা, বাজার করা···উফ! এত কাজ আর একলা করতে পারছিলাম না, তাই বিয়ে করে নিলাম।
সাগরঃ দারুণ! তুই কি জানিস এই একই কারণে আমার ডিভোর্স হয়েছে?


১৯-কাকে বিয়ে করেছেন
দুই ব্যক্তির মধ্যে কথা হচ্ছে-
১ম ব্যক্তিঃ ভাই, আপনি বিয়ে করেছেন?
২য় ব্যক্তিঃ হ্যাঁ।
১ম ব্যক্তিঃ কাকে?
২য় ব্যক্তিঃ একটা মেয়েকে।
১ম ব্যক্তিঃ কেউ কি ছেলেকে বিয়ে করে?
২য় ব্যক্তিঃ হ্যাঁ, করে। গত বছর আমার বোন একটা ছেলেকে বিয়ে করেছিল।


২০-বিয়েটা কেমন
১ম বন্ধুঃ বিয়েটা কেমন জানিস?
২য় বন্ধুঃ নাহ্‌, কেমন?
১ম বন্ধুঃ এটা হচ্ছে ধর, রেস্টুরেন্টে গিয়ে তুই অর্ডার দিবি একটা খাবার, ওটা তোর টেবিলেও আসবে। কিন্তু ওটা মুখে দিয়েই তোর নজর চলে যাবে পাশের টেবিলের ভদ্রলোকের প্লেটের দিকে। তোর শুধু মনে হতে থাকবে, ওটাই তোর অর্ডার দেওয়া উচিত ছিল।


২১-

ভালোবাসা বিষয়ক কয়েকটি কথোপকথন

: আমি কি এতই ভালো যে, প্রতিদিন তুমি প্রার্থনা করো, সবাই যেন আমার মতো একজন প্রেমিকা পায়···?
: অবশ্যই, কারণ একা আমিই কেন ভুক্তভোগী হতে যাব।
: আচ্ছা, তুমি কি এই ভ্যালেন্টাইনস ডেতে আমাকে এনগেজমেন্টের আগেই একটা রিং দেবে?
: অবশ্যই। তোমার ফোন নম্বরটা দাও, আমি প্রতিদিনই একটা করে রিং দেব।
: আমি স্বপ্ন দেখলাম, তুমি ভ্যালেন্টাইনস ডেতে আমাকে একটা হীরের নেকলেস দিচ্ছ। তুমি কি আমাকে কোনো গিফট দেবে?
: অবশ্যই। তোমাকে স্বপ্নের মানে জানার জন্য একটা ‘খাবনামা’ দেব।
: আচ্ছা, তুমি কি আমাকেই প্রথম ভালোবাসার কথা বলেছ?
: অবশ্যই। আচ্ছা, বল তো তোমরা সব ছেলেই এই কথাটা বলো কেন?
: এই শোন, ভ্যালেন্টাইনস ডেতে কথা দাও, আজ থেকে তুমি আমার আত্মীয়দের ভালোবাসবে।
: অবশ্যই। দেখ, ইন ফ্যাক্ট আমি কিন্তু তোমার শাশুড়িকে আমার শাশুড়ির চেয়ে বেশি ভালোবাসি।
: প্রথমে এনগেজমেন্ট রিং, তারপর ওয়েডিং রিং, তারপর কী?
: তারপর অবশ্যই সাফারিং।
গুরু


২২-

ভালোবাসা, বিয়ে, অতঃপর···

– একজন সফল পুরুষ হচ্ছেন তিনি যিনি তাঁর স্ত্রী যতটা খরচ করতে পারেন তাঁর থেকে বেশি রোজগার করতে পারেন। আর একজন সফল নারী হচ্ছেন তিনি যিনি এমন একজন সফল পুরুষ খুঁজে বের করতে পারেন।
– যখন কোনো নববিবাহিত দম্পতি হাসে তখন সবাই বোঝে-কেন?
আর যখন ১০ বছরের পুরোনো দম্পতি হাসে তখন সবাই ভাবে-কেন?
– মেয়েদের সম্পর্কে বিবাহিতদের চেয়ে ব্যাচেলররাই বেশি জানে। যদি না-ই জানত তাহলে সে আর ব্যাচেলর থাকত না।
– একটি শান্তিপূর্ণ বিবাহিত জীবনের অন্যতম শর্ত হচ্ছে বারবার প্রেমে পড়া। কিন্তু অবশ্যই তা কেবল নিজের স্ত্রীর প্রেমে।
– এক ভদ্রলোক খুব গর্ব করে নিজের স্ত্রীর কথা বলছেন, ‘জানিস, যতই ঝগড়া হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত আমার স্ত্রী আমার কথাই মেনে নেয়।’ অন্য ভদ্রলোক বেশ বিমর্ষভাবে বললেন, ‘তুই তো তাহলে অনেক ভাগ্যবান। তা কেমন করে এমন অসাধ্য সাধন করিস?’ এবার প্রথম ভদ্রলোক বললেন, ‘ঝগড়ার শেষে আমি বলি, সব দোষ আমার। আর ও অকপটে আমার কথা মেনে নেয়।’
– ভালোবাসা অন্ধ। আর ‘বিয়ে’ ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে যাওয়া চোখ সহজেই খুলে দেয়। কাজেই অন্ধ চোখ খুলতে শিগগিরই বিয়ে করুন।
– বিয়ে হচ্ছে দুজন মানুষের মধ্যকার এমন এক সম্পর্ক যেখানে একজন সদা সর্বদা সঠিক আর অন্যজন হচ্ছে স্বামী।
– স্বামী তার স্ত্রীকে বলছে, ‘তুমি বিয়ের আংটি ভুল আঙ্গুলে পরেছ কেন?’ জবাবে স্ত্রী বলল, ‘কারণ আমি ভুল মানুষকে বিয়ে করেছি।’
– যখন কোনো স্বামী তার স্ত্রীর জন্য গাড়ির দরজা খুলে দেয় তখন এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, হয় গাড়িটি নতুন না হয় স্ত্রী!
– বিয়ের আগে প্রেমিকা কী বলেছিল তাই ভাবতে ভাবতে সারা রাত নিঘুêম কেটে যেত।
আর বিয়ের পর স্ত্রী কী বলছে তা শেষ করার আগেই ঘুম চলে আসে।
– অবিবাহিতদের ট্যাক্স বেশি দেওয়া উচিত, কারণ তারা বিবাহিতদের চেয়ে উন্নততর জীবন যাপন করে।
– স্বামী-স্ত্রী দুজন একটি ইচ্ছাপূরণ নদীর সামনে এসে দাঁড়াল। প্রথমে স্ত্রী মনে মনে কিছু একটা চাইল। তারপর একটি পাঁচ টাকার কয়েন পানিতে ফেলে দিল। পরে তার স্বামী কয়েন ফেলতে গিয়ে পা পিছলে নিজেই পানিতে পড়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রী চিৎকার দিয়ে বলল, ‘ওয়াও! এখানে দেখি সত্যি সত্যি ইচ্ছা পূরণ হয়!!’
– মাতৃভাষা বলা হয় কিন্তু পিতৃভাষা কেন বলা হয় না জানেন? কারণ পিতা কদাচিৎই কথা বলার সুযোগ পায়।
– আপনি যতই চাকরি বদলান না কেন, শেষ দিন পর্যন্ত আপনাকে আসলে একই বসের অধীনে কাজ করতে হয়। বুঝতে পারছেন তো?
– স্বামী তার রাগান্বিত স্ত্রীকে বলছে, ‘আমাকে অপবাদ দিয়ো না! আমি তোমার আত্মীয়দের অবহেলা করি-এ কথা একদম ঠিক না। যেমন ধরো, তোমার শাশুড়ি, তাকে তো আমি আমার নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসি।’
– লটারির প্রথম পুরস্কার জিতে স্ত্রী স্বামীকে বলল, ‘তোমার কাপড়চোপড় প্যাক করো।’ স্বামী খুশি খুশি মনে বলল, ‘কোথায় ঘুরতে যাবে, শীতের কাপড় বেশি নেব নাকি গরমের?’ স্ত্রী ধমক দিয়ে বলল, ‘সব কাপড় প্যাক করো, আমি কোথাও যাব না; তোমার সব কাপড়চোপড় নিয়ে তুমি ভাগো।’
– মহা ভুল করার পরও কখন মানুষ অভিনন্দন পায় জানেন? যখন সে বিয়ে করে।
– পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট বই কোনটি জানেন? সেই বইয়ের নাম হচ্ছে-ছেলেরা মেয়েদের যতটা চেনে।
– আপনি আপনার মনের কথা অকপটে বলতে পারবেন, আপনার স্ত্রী আপনার কথার মধ্যে কোনো প্রকারের ডিস্টার্ব করবে না-এমন সুযোগ চান? তাহলে উনি ঘুমালে আপনার যা বলার বলুন।
– বিয়ের আগে ছেলেরা পূর্ণতা পায় না, অসমাপ্ত থাকে, আর বিয়ের পর পুরোপুরি সমাপ্ত হয়ে যায়।


২৩-হাসার সুযোগ
মেয়ের বিয়ের জন্য ছেলে দেখছেন মা-বাবা।
মা : দেখ, ছেলেটির যত গুণই তুমি দেখ, ওর মাঢ়ীটা কিন্তু ভালোনা। হাসলে কালো মাঢ়ীটা বেরিয়ে কেমন বিশ্রী দেখায়।
বাবা : সে জন্য ভেব না। তোমার মেয়েকে বিয়ে করলে এই ছেলে হাসার কোন সুযোগই পাবে না জীবনে।


২৪-

ফ্যামিলি প্রবলেম

এক বাংলাদেশী আর এক আমেরিকান বারে বসে একটার পর একটা মাল খেয়ে যাচ্ছে আর গল্প করছে। বাংলাদেশী বলল, জানিস আমার বাবা-মা আমার জন্যে গ্রামের একটা মেয়েকে ঠিক করেছে। একে বলে এরেঞ্জড ম্যারেজ। আমি কখনও তাকে দেখিনি। আমি এমন কাউকে বিয়ে করতে চাইনা যাকে আমি ভালবাসি না। আমি খোলাখুলি তাদের এসব বলে দিয়েছি, এখন ভয়াবহ ফ্যামিলি প্রব্লেমের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।
আমেরিকান বলল, লাভ ম্যারেজের কথা বলছ। আমার গল্প বলছি, আমি এক বিধবাকে বিয়ে করেছি, যাকে আমি প্রচন্ড ভালবাসি এবং তিনবছর ডেট করেছি তার সাথে। কয়েকবছর পরে আমার বাবা আমার স্টেপ-ডটারের প্রেমে পড়ে, তাই আমার বাবা হল আমার সন-ইন-ল, আমি হলাম আমার বাবার শ্বসুর। আমার মেয়ে হল আমার মা, বউ দাদী।
সমস্যা আরও বাড়ল যখন আমার একটা ছেলে হল। আমার ছেলে হল আমার বাবার ভাই তাই আমার চাচা। আরও গুরুতর হল যখন আমার বাবার আরেকটি ছেলে হল। এখন আমার বাবার ছেলে মানে আমার ভাই হল গিয়ে আমার নাতি।
শেষ পর্যন্ত আমি নিজে আমার দাদা এবং নিজের নাতি হলাম। আর তুমি বলতেছ ফ্যামিলি প্রবলেম। গিভ মি এ ব্রেক।

২৫-

টেকনিক্যাল সাপোর্ট

এক ব্যক্তি টেকনিক্যাল সাপোর্টে চিঠি লিখেছে-
ডিয়ার টেকনিক্যাল সাপোর্ট,
গত বৎসর আমি গার্লফ্রেন্ড ৭.০ থেকে ওয়াইফ ১.০ তে আপগ্রেড করেছিলাম। তার কিছুদিনের মাঝেই আমি বুঝতে পারলাম এটি অযাচিত ভাবে একটি চাইল্ড প্রসেসিং শুরু করেছে যা অনেক জায়গা এবং রিসোর্স নিয়ে নিচ্ছে।
শুধু তাই নয়, ওয়াইফ ১.০ ইনষ্টল হওয়ার সাথে সাথে অন্য প্রোগ্রামগুলোর সাথে ইন্টিগ্রেটেড হতে শুরু করেছে এবং বর্তমানে এটি সব ধরনের সিস্টেম একটিভিটি মনিটর করতে শুরু করেছে। ওয়াইফ ১.০ যেসকল প্রোগ্রামের সাথে কনফ্লিক্ট শুরু করেছে তার কয়েকটি- পোকার নাইট ৭.১, ফুটবল ৫.০, হান্টিং এন্ড ফিসিং ৭.৫ এবং গলফিং ৩.৬।
আমি ওয়াইফ ১.০ কে কিছুতেই ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেসে পাঠিয়ে আমার প্রিয় এপ্লিকেশনগুলো রান করাতে পারছি না। তাই আমি ঠিক করেছিলাম আমার আগের গার্লফ্রেন্ড ৭.০ তে যাওয়ার ব্যপারে। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য ওয়াইফ ১.০ তে কোনরকম আনইনস্টল প্রসিডিউর নাই। দয়া করে আমাকে উদ্ধার করুন।
ধন্যবাদ
সমস্যাগ্রস্থ গ্রাহক।

পরের দিন টেকনিক্যাল সাপোর্ট থেকে জবাব এসে হাজির-
জনাব সমস্যাগ্রস্থ ব্যবহারকারী,
এটা খুবই কমন একটি সমস্যা যেটির বিষয়ে প্রায়ই লোকজন অভিযোগ করে থাকে। বেশীরভাগ লোকই গার্লফ্রেন্ড ৭.০ থেকে ওয়াইফ ১.০ তে আপগ্রেড করে এটিকে একটি ইউটিলিটি প্রোগ্রাম ভেবে যা তাদের এন্টারটেইনমেন্টের জন্য কাজে আসবে। কিন্তু আসল সত্যটা হচ্ছে ওয়াইফ ১.০ একটি অপারেটিং সিস্টেম যা ডিজাইন করাই হয়েছে সবকিছুর নিয়ন্ত্রন ভার নিজের কাছে নিয়ে নেয়ার মত করে। এবং এটিকে ডিলিট করার কোন উপায় নেই… এমনকি আনইষ্টল করারও কোন ব্যবস্থা নেই। এটি একবার যেখানে সেটাপ হয়ে যায় সেখানের সমস্ত সিষ্টেম ও প্রোগ্রাম ফাইলকে সরিয়ে জাঁকিয়ে হয়ে বসে। যাকে বলা যেতে পারে উড়ে এসে জুড়ে বসা!
আপনাকে আমরা দুঃখের সাথে জানাতে বাধ্য হচ্ছি যে আপনি ওয়াইফ ১.০ থেকে আর কোনদিনই গার্লফ্রেন্ড ৭.০ তে ফেরত যেতে পারবেন না… কারন এটি আপনাকে তা করতে দিবে না। আপনি দয়া করে ওয়াইফ ১.০ এর সাথে দেয়া সতর্কতাবাণী-মেইনটেনেন্স/চাইল্ড সাপোর্ট ম্যানুয়্যালটা পড়ে নিবেন। আপনার জন্য আমাদের পরামর্শ হলো আপনি ওয়াইফ ১.০ তেই থাকুন এবং চেষ্টা করুন পরিস্থিতি কিভাবে উন্নতি করা যায়। আমরা আপনাকে আরো উপদেশ দেব একটি ব্যাকগ্রাউন্ড এপ্লিকেশন সেটাপ করে নেয়ার ব্যপারে যা এটির যেকোন আর্গুমেন্টে “ইয়েস ডিয়ার” রিটার্ন করবে।
এটি নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য আপনি সবসময়ই প্রথমে C:\APOLOGIZE! কমান্ডটি ব্যবহার করবেন। কারন শেষ পর্যন্ত আপনাকে ‘APOLOGIZE’ কমান্ডটাই ব্যবহার করতে হবে সিষ্টেম স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরত আনার জন্য।
তবে আমরা আপনাকে পুরোপুরি নিরাশ করতে চাই না..। বস্তুত ওয়াইফ ১.০ একটি চমৎকার প্রোগ্রাম কিন্তু এটিকে অনেক যত্নের সাথে রাখতে হয়। ওয়াইফ ১.০ অবশ্য বেশ কিছু সাপোর্ট প্রোগ্রাম সহকারে সেটাপ হয়ে থাকে, যেমন ক্লিন এন্ড সুইপ ৩.০, কুক ইট ১.৫ এবং ডু বিল ৪.২।
তবে এসব প্রোগ্রাম ব্যবহারের সময় আপনাকে খুবই সচেতন থাকতে হবে। কারন এই প্রোগ্রাম ব্যবহার করতে গিয়ে একটু উনিশ বিশ হলেই কিছু থার্ড পার্টি প্রোগ্রাম ‘ক্যাট ক্যাট ১.৯’, ‘কাউ কাউ ৪.৯’ এক্সিকিউটেড হয়ে যাবে। আর একবার যদি তা হয়ে যায়.. তাহলেই সারছে! সিষ্টেমের বারোটা বেজে যাবে। তখন সিষ্টেমের আগের পারফরমেন্স ফেরত আনতে আপনাকে আরো বেশ কিছু ইউটিলিটি টুল কিনতে হবে। আমরা এক্ষেত্র আপনাকে ফ্লাওয়ার ২.১ ও ডায়মন্ড ৫.০ কেনার পরামর্শ দেব।
বিশেষ সতর্কতা: কোন রকমেই.. কোন অবস্থাতেই কোনরকম স্যাক্রেটারী উইথ শর্ট স্কার্ট ৩.৩ সেটাপ করতে যাবেন না। এই ধরনের এপ্লিকেশগুলো ওয়াইফ ১.০ এর সাথে একদমই ম্যাচ করে না এমনকি ফাইবার অপটিক লাইন কেটে গেলেও ৯০০ মেগাবাইট সাইজের অশান্তি ৯.৯ মূহুর্তের মাঝেই ডাউনলোড করে সিষ্টেমে বড় ধরনের ড্যামেজ করে দিতে পারে। বুইঝেন কিন্তু….



২৬-

কোন গাধাই বিয়ে করবেনা

প্রেমিক-প্রেমিকা নিজেরাই নিজেদের বিয়ে ঠিক করেছে। ছেলেটা বলল, আমাদের বিয়ের এই খবরটা বিয়ের আগের দিন পযর্ন্ত কাউকে আমরা জানাবো না । খবরটা শুধু বিয়ের আগের দিন আমরা সবাইকে জানাবো এবং এইটা একটা Surprise হবে।
মেয়েটা বলল, আমি শুধু একজনকে এই খবরটা জানাতে চাই।
ছেলে :- কেন?
মেয়ে :- পাশের বাড়ির কালু আমাকে একদিন বলেছিল, কোন গাধাই নাকি আমাকে বিয়ে করবেনা। তাই ওকে জানাতে হবে।



২৭-প্রস্তাবে রাজী আছেন কিনা
এক ছেলে, তার প্রিয়তমার বাবার কাছে প্রস্তাব দিলো যে সে মেয়েটিকে বিয়ে করতে চায়। মেয়েটার বাবা জিজ্ঞেস করলো,
: আচ্ছা তুমি কি মদ খাও? জুয়া খেলো?
: আংকেল, ওসব পরে হবে, আগে বলুন আপনি প্রস্তাবে রাজী আছেন কিনা!



২৮-বিয়ে
জাদরেল উকিল -আপনি বিয়ে করেছেন তো
-আজ্ঞে হ্যা করেছি ।
-কাকে বিয়ে করছেন ?
- এক…একজন মেয়েকে
- রাবিস সেটাও বলতে হয়। কখনো শুনেছো কেউ কোন ছেলেকে বিয়ে করেছে শুনেছো?
- আজ্ঞে হ্যা আমার বোন করেছে ।



২৯-জীবনেও বিয়ে করব না
জজ সাহেবঃ যখন এই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হচ্ছিল তখন কি তুমি সেখানে উপস্থিত ছিলে?
সাক্ষীঃ জী হ্যাঁ।
জজ সাহেবঃ তোমার এই ঝগড়া থেকে কি ধারনা হলো?
সাক্ষীঃ হুজুর আমি জীবনেও বিয়ে করব না



30পারফেক্ট মেয়ের খোঁজ
চল্লিশ বছর পার হয়ে গেছে তবু বিয়ে করেনি এক লোক। একদিন একজন এর কারণ জিজ্ঞেস করল।
লোকটি বলল, সারা জীবন আমি একটা পারফেক্ট মেয়ের খোঁজ করছিলাম।
–তা একটিও পান নি?
–পেয়েছিলাম একটি, কিন্তু সে আবার একটা পারফেক্ট ছেলের অপেক্ষায় ছিল।

বাংলা কৌতুক 'ডাক্তার-রোগী'

১-পশুদের ডাক্তার    (-ফেসবুক থেকে মন্তব্য দিন)
দিয়া একদিন বাবাকে বলল, ‘আমি বড় হয়ে পশুদের ডাক্তার হব।’
অবাক হয়ে বাবা বললেন, ‘কেন, দিয়া? মানুষের ডাক্তার না হয়ে তুমি পশুদের ডাক্তার হবে কেন?’
দিয়া গম্ভীর হয়ে বলল, ‘বাবা, তুমি জানো না, মানুষের ভুল চিকিৎসা করলে তারা নালিশ করে, কিন্তু পশুরা তা করে না


২-অসুখটা আসলে মানসিক
ডাক্তার: চিন্তার কিছু নেই। আপনার চাচার অসুখটা আসলে মানসিক। উনি মনে করেন উনি অসুস্থ, আসলে তা নয়।
কিছুদিন পর রোগীর খবর নিতে ফোন করলেন ডাক্তার।
ডাক্তার: কী অবস্থা আপনার চাচার?
রোগীর আত্মীয়: খুবই খারাপ! উনি মনে করেন, উনি মারা গেছেন


৩-হাঁটতে পারা
প্রথম বন্ধু: পা ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ডাক্তার বলেছিল, এক সপ্তাহের মধ্যেই আমি হাঁটতে পারব।
দ্বিতীয় বন্ধু: সত্যি সত্যি পেরেছিলি?
প্রথম বন্ধু: না পেরে কী উপায় ছিল! হাসপাতালের বিল মেটাতে গাড়িটা বিক্রি করে দিতে হলো যে।



৪-রোগী ভেগে গেল
ডাক্তার: আপনার ছেলের দাঁত তুলে দিয়েছি। এবার জলদি ৫০০ টাকা দিন।
মা: কিন্তু আপনার ফি তো ১০০ টাকা।
ডাক্তার: আপনার ছেলের চিৎকারে যে আমার আর চারটে রোগী ভেগে গেল, সেই টাকাটা কে দেবে, শুনি?


৫-মূত্র পরীক্ষা
এক বাচ্চা রোগীকে চিকিৎসক মূত্র পরীক্ষার পরামর্শ দিলেন। নার্স বাচ্চাটিকে একটা টেস্টটিউব দিয়ে বললেন, যাও, টয়লেটে গিয়ে এটা ভর্তি করে আনো। বাচ্চাটি কিছুক্ষণ পর হাসি মুখে টয়লেট থেকে বেরিয়ে নার্সকে খালি টেস্টটিউবটি দিয়ে বলল, এটার দরকার পড়েনি। ভেতরে বড় একটা কমোড আছে।



৬-সবচেয়ে বড় সমস্যা
ছোট্ট রাতুলের শরীরটা খুব খারাপ। জ্বর, কাশি, ক্রমাগত বমি করছে। মা-বাবা তাকে নিয়ে ছুটলেন ডাক্তারখানায়। তাকে অনেক পরীক্ষার পর চিকিৎসক জিজ্ঞেস করলেন, বাবু তোমার সবচেয়ে বড় সমস্যাটা কী?
রাতুল অনেক ভেবেচিন্তে উত্তর দিল, আমার ছোট বোন।


৭-আমি একটা মুরগি
এক পাগল রোগী এসেছেন চিকিৎসকের কাছে—
চিকিৎসক: কী সমস্যা আপনার, বলুন?
রোগী: স্যার, আমার সব সময় মনে হয়, আমি একটা মুরগি।
চিকিৎসক: বলেন কী। তা কবে থেকে এমনটা মনে হয় আপনার?
রোগী: যখন আমি একটি ডিম ছিলাম, ঠিক তখন থেকেই, স্যার।



৮-

ঘুমের ওষুধ

এক ভদ্রমহিলা তাঁর স্বামীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেছেন। চিকিৎসক ভদ্রলোকের সঙ্গে আলাদা কথা বলার পর প্রেসক্রিপশন লিখে ওই ভদ্রমহিলাকে বললেন, ‘আপনার স্বামীর বেশ কিছুদিন বিশ্রাম নেওয়া দরকার। কয়েকটি ঘুমের ওষুধ লিখে দিয়েছি, সব ঠিক হয়ে যাবে।’
ভদ্রমহিলা জিজ্ঞেস করলেন, ‘তা ওষুধগুলো ওনাকে কখন খেতে দেব?’
‘আরে এই ওষুধ আপনার স্বামীকে খাওয়াবেন কেন, ওগুলো তো আপনার জন্য।’




৯-

রোগীকে অজ্ঞান করা হয় কেন

চিকিৎসক তাঁর নতুন সহকারীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন—
চিকিৎসক: আচ্ছা বলো তো, অস্ত্রোপচার করার আগে রোগীকে অজ্ঞান করা হয় কেন?
সহকারী: এ তো খুব সহজ প্রশ্ন, স্যার। রোগী জেগে থাকলে আপনার অস্ত্রোপচার কীভাবে করতে হয়, সেটা শিখে ফেলবে। আর পরে ওই রোগী যদি নিজেই ডাক্তারখানা খুলে অস্ত্রোপচার শুরু করে দেন, তাহলে তো আমরা পথে বসে যাব। এ জন্যই রোগীকে অজ্ঞান করা হয়, স্যার।



১০-১০ টাকার উপকার
হাবলু গেছেন চিকিৎসকের কাছে—
চিকিৎসক: বলুন, আপনার সমস্যা কী?
হাবলু: স্যার, এক মাস ধরে প্রতিদিনই ৫০ টাকার ওষুধ কিনে খাচ্ছি, কিন্তু আজ অবধি এক টাকারও উপকার হয়নি। কিছু একটা করুন, স্যার।
চিকিৎসক: ঠিক আছে, কোনো সমস্যা নেই। এই প্রেসক্রিপশনে ৪০ টাকার ওষুধ লিখে দিয়েছি। আমি নিশ্চিত, অন্তত ১০ টাকার উপকার এবার হবেই।



১১-

একটি সুসংবাদ ও একটি দুঃসংবাদ

চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে কথা হচ্ছে—
রোগী: আচ্ছা, আমি হাসপাতালে কেন? কীভাবে এখানে এলাম?
চিকিৎসক: সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর আপনাকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে।
রোগী: কী ঘটেছিল?
চিকিৎসক: ওসব বাদ দেন। আপনার জন্য একটি সুসংবাদ ও একটি দুঃসংবাদ আছে। বলেন কোনটা আগে শুনতে চান?
রোগী: দুঃসংবাদটিই আগে শুনি।
চিকিৎসক: হুম্ম। দুর্ঘটনায় আপনার পা দুটিতে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছিল। তাই আপনার দুটি পা-ই কেটে ফেলতে হয়েছে।
রোগী: হায়! আর সুসংবাদটি কী?
চিকিৎসক: সুসংবাদটি হলো, পাশের ওয়ার্ডের এক রোগী আপনার স্যান্ডেল জোড়া চড়া দামে কেনার প্রস্তাব দিয়েছেন। এই অফারে বেচবেন কি না, ভেবে দেখেন। কারণ, এ সুযোগ আর পাবেন না।



১২-

দুটি ঠোঁটেই পট্টি

রাস্তায় হোঁচট খেয়ে স্ত্রীর ওপরের ঠোঁটে আঘাত লাগায় স্ত্রীকে নিয়ে বিটলু গেছেন চিকিৎসকের কাছে।
চিকিৎসক ওষুধ দিয়ে বিটলুর স্ত্রীর ওপরের ঠোঁটে একটি পট্টি মেরে দিয়ে বললেন, ‘আর কোনো সমস্যা নেই। কয়েক দিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে।’
বিটলু চিকিৎসকের কানে কানে বললেন, ‘ওর দুটি ঠোঁটেই পট্টি মেরে দিতে ফি কত দিতে হবে, স্যার।’


১৩-

সুস্থ হলে

কয়েক দিন থেকেই পল্টুর শরীরটা বেশ খারাপ। এ কারণে তাঁর চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা।
দুই দিন পর পল্টুর এক বন্ধু তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোর না শরীর খারাপ। ডাক্তারের কাছে না গিয়ে বসে আছিস কেন? চল, আজকেই তোকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব।’
‘না রে, আজ শরীরটা খুবই খারাপ। আমি উঠতেই পারব না। ভাবছি শরীরটা একটু সুস্থ হলে কাল একবার যাব।’


১৪-

দুইটা প্রেসক্রিপশন

চিকিৎসক ও এক রোগীর মধ্যে কথা হচ্ছে—
রোগী: আচ্ছা, আমাকে দুইটা প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন কেন?
চিকিৎসক: হুম্ম, একটা হচ্ছে শুধুই আপনার জন্য; যাতে আপনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠেন। তাহলে আপনার আগের সবকিছু ভালো লাগবে।
রোগী: তাহলে আরেকটা প্রেসক্রিপশন কী কারণে?
চিকিৎসক: শুধু আপনার ভালো লাগলে তো হবে না। ওষুধ কোম্পানিগুলোকেও তো ভালো লাগতে হবে, নাকি! ওদের দিকেও তো তাকাতে হবে আমাকে।


১৫-

ওষুধ গেলানো

রোগী: বাসার পাশের রাস্তায় কুকুরগুলো রোজ রাতে নিয়ম করে হল্লা করে। কিছুতেই ঘুমাতে পারি না।
ডাক্তার: এই ঘুমের বড়িটা নতুন এসেছে। খুব ভালো কাজ দেয়।
রোগী ওষুধ নিয়ে চলে গেল। কিন্তু এক সপ্তাহ বাদেই ফিরে এসে বলল, ‘এখনো আমার ঘুমের সমস্যা হচ্ছে।’
ডাক্তার প্রশ্ন করে, কিন্তু ওষুধটা তো বেশ ভালো। অনেকেরই কাজ হয়েছে।
রোগী: তাতে কি, সারা রাত কুকুরগুলোকে ধাওয়া করে একটা যদিও ধরতে পারি, কিছুতেই বদমাশটাকে ওষুধ গেলানো যায় না।


১৬-

ঘুমানোর ব্যবস্থা

মোখলেস চিকিৎসকের কাছে গিয়ে বলল, ‘পাড়ার কুকুরগুলো সারা রাত চিৎকার করে। গত দুই রাত আমার মোটেও ঘুম হচ্ছে না। ঘুমানোর একটা ব্যবস্থা করে দিন না, স্যার।’
চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্রে একটি ওষুধের নাম লিখে দিয়ে বললেন, ‘একটা ওষুধ লিখে দিলাম, এটা ভালো কাজ করবে। সাত দিন পর এসে দেখা করে যাবেন।’ সাত দিন পর আবারও মোখলেস ওই চিকিৎসকের কাছে গেল। তাকে দেখে চিকিৎসক বললেন, ‘কী, এখন নিয়মিত ঘুম হয় তো?’
‘স্যার, অবস্থা তো আগের মতোই।’
‘বলেন কী? ওষুধ ঠিকমতো খাননি?’
‘কী যে বলেন, স্যার! আমি কেন ওষুধ খাব? আমি গত সাত দিন ধরেই কুকুরগুলোকে ওই ওষুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু একটি কুকুরকেও ওষুধ খাওয়াতে পারিনি।’ মোখলেসের উত্তর।


১৭-নিউমোনিয়াতেই মারা যাবেন
রোগী: ডাক্তার, আপনি কি নিশ্চিত যে আমার নিউমোনিয়া হয়েছে? আমি কিন্তু একজনের কথা জানি যাকে ডাক্তার নিউমোনিয়ার চিকিৎসা দিয়েছিল। পরে সে ক্যানসারে মারা যায়।
ডাক্তার: ঘাবড়াবেন না, আমি আপনাকে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা দিলে আপনি নিউমোনিয়াতেই মারা যাবেন।

১৮-

উপরে যাবার রাস্তা

নিচতলার ছোট চেম্বার ছেড়ে দোতলায় বড় একটা চেম্বার নিলেন ডাক্তার আশিক। কিন্তু তার পর থেকেই হঠাৎ করে রোগী আসা বন্ধ হয়ে গেল। চিন্তায় পড়ে একদিন এক বন্ধুকে ডাকলেন চেম্বারে, খুলে বললেন সব কথা। বন্ধু শুনে হাসল। তারপর টানতে টানতে নিয়ে গিয়ে আঙুল দিয়ে দেখাল তার সাইনবোর্ডটাকে। সেখানে লেখা, ‘ডাক্তার আশিক, এমবিবিএস’ আর তার নিচে লেখা ‘উপরে যাবার রাস্তা’।


১৯-শুনতে না পেলে…
মাথায় আঘাত পেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছেন এক খেলোয়াড়। কোচ দ্রুত ছুটে এলেন মাঠের মধ্যে। তারপর খেলোয়াড়ের কানের কাছে মুখ নিয়ে চিৎকার করে বলতে লাগলেন, ‘তুমি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছ? শুনতে পেলে একটা হাত ওপরে তুলে নাড়ো। আর শুনতে না পেলে দুই হাত ওপরে তুলে নাড়ো।’


২০-

নতুন আরেকটি বিয়ে

রাতেরবেলায় হাবলু বেশ উত্তেজিত হয়ে চিকিৎসককে ফোন করেছে।
হাবলু: স্যার, দয়া করে তাড়াতাড়ি একটু আমাদের বাসায় আসুন। আমার স্ত্রী ব্যথায় উঠতে পারছে না। মনে হচ্ছে এটা অ্যাপেনডিসাইটিসের ব্যথা।’
চিকিৎসক: ভয়ের কোনো কারণ নেই। আমি সকাল হলেই আপনার বাসায় পৌঁছে যাব।’
হাবলু: কিন্তু স্যার, আমার স্ত্রীর অবস্থা যে খুবই খারাপ।
চিকিৎসক: (এবার একটু উত্তেজিত) কী বলছেন যা-তা! দুই বছর আগেই তো আপনার স্ত্রীর অ্যাপেনডিসাইটিস অপারেশন করে ফেলেদিয়েছি। তার তো আর অ্যাপেনডিসাইটিসের ব্যথা হতে পারে না। এটা অন্য কোনো ব্যথা।’
হাবলু: সবই ঠিক আছে। কিন্তু স্যার, আমি যে নতুন আরেকটি বিয়ে করেছি।


২১-চাবি গিলে ফেলেছি
মন্টু ও চিকিৎসকের মধ্যে কথা হচ্ছে—
মন্টু: স্যার, আমি বাসার চাবি গিলে ফেলেছি।
ডাক্তার: বলেন কী! কখন এ ঘটনা ঘটালেন?
মন্টু: তা প্রায় মাস দুয়েক হবে।
ডাক্তার: এত দিন আসেননি কেন?
মন্টু: স্যার, তখন একটি নকল চাবি বানিয়ে নিয়েছিলাম। আজকে সেটাও হারিয়ে গেছে, তাই বাধ্য হয়ে আপনার শরণাপন্ন হয়েছি।


২২-

পেট্রল ফুরোলেই

হাবলুর ছেলে পানি ভেবে ভুল করে এক বোতল পেট্রল খেয়ে ফেলেছে। পেট্রল খাওয়ার পর থেকেই হাবলুর ছেলে অনবরত এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে লাগল। ছেলের কাণ্ড দেখে হাবলু তো মহা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। হাঁপাতে হাঁপাতে হাবলু চিকিৎসকের কাছে গিয়ে হাজির।
চিকিৎসক: সমস্যাটা কী, এভাবে হাঁপাচ্ছেন কেন?’
হাবলু: আর বলবেন না! আমার ছেলে পেট্রল খেয়ে শুধু এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছে। তাকে থামানোর একটা উপায় বাতলে দেন না।
চিকিৎসক: কোনো চিন্তা করবেন না। পেট্রল ফুরোলেই আপনার ছেলে থেমে যাবে।



২৩-

ঘুমানোর পরে আর ঘুম থেকে জেগে ওঠার আগে

সঞ্জু এসেছে চিকিৎসকের কাছে। চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকেই সঞ্জু বললেন, ‘স্যার, আমি খুব বিপদে আছি। খাওয়ার পর আমার আর খিদে পায় না।’
চিকিৎসক বললেন, ‘তাই নাকি! তাহলে তো জটিল সমস্যা আপনার।’ এরপর একটু দাঁড়ান বলেই চিকিৎসক প্রেসক্রিপশন লিখে সঞ্জুকে বললেন, ‘এখানে দুটি ওষুধের নাম লেখা আছে। নিয়মমাফিক খেলেই ঠিক হয়ে যাবেন। আর শুনুন, এক নম্বর ওষুধটি খাবেন ঘুমানোর পরে, আর দুই নম্বরটি ঠিক ঘুম থেকে জেগে ওঠার আগেই খাবেন।’



২৪-

১০০তম রোগী

বাইপাস সার্জারি করতে চিকিৎসকের কাছে এক রোগী এসেছেন।
রোগী চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি বাইপাস সার্জারি করালে সফলতার নিশ্চয়তা কত ভাগ দিতে পারবেন?’
চিকিৎসক দরাজ গলায় বললেন, ‘অবশ্যই শতভাগ নিশ্চয়তা দেব আমি।’
রোগী বললেন, ‘কিন্তু শতভাগ দিতে পারবেন—এ ব্যাপারে এত নিশ্চিন্ত হলেন কী করে?’
‘মেডিকেল রেকর্ড বলে, প্রতি ১০০ জনে ৯৯ জন রোগীর চিকিৎসা ব্যর্থ হলে একজন অবশ্যই সফল হবে। এর আগে আমি ৯৯ জন রোগীর চিকিৎসা করেছি। তারা কেউই বাঁচেনি। আর আপনি হচ্ছেন আমার ১০০তম রোগী। সেই হিসাবে বলা যায়, আপনি সুস্থ হবেনই।’—চিকিৎসকের জবাব।



২৫-

চশমা চোখে দিয়ে বাসাতেই পড়ে নেব

মোহন চিকিৎসকের কাছে এসেছে চশমা নিতে। চিকিৎসক সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মোহনকে একটা চশমা দিয়ে দিলেন।
চশমা পেয়ে মোহন চিকিৎসককে বলল, ‘এই চশমা দিয়ে কি আমি এখন পড়তে পারব?’
চিকিৎসক বললেন, ‘অবশ্যই পারবে।’ বাহ্, ভালো তো। তাহলে এখন থেকে আর অযথা সময় নষ্ট করে স্কুলে যাব না। চশমা চোখে দিয়ে বাসাতেই পড়ে নেব।’


২৬-

ওজন কমানোর জন্য একটু পরামর্শ

এক ভদ্রলোক ও চিকিৎসকের মধ্যে ফোনে কথা হচ্ছে—
ভদ্রলোক: চিকিৎসক, আমার ওজন কমানোর জন্য একটু পরামর্শ চাচ্ছি।
চিকিৎসক: কেন, সমস্যা কী আপনার?
ভদ্রলোক: আমি একটা সুন্দর উপহার পেয়েছি। কিন্তু মোটা হওয়ার কারণে সেটা ব্যবহার করতে পারছি না।
চিকিৎসক: ঠিক আছে, কাল একবার আসুন। প্রেসক্রিপশন দিয়ে দেব। তারপর ঠিকই আপনি আপনার পোশাকটি পরতে পারবেন।
ভদ্রলোক: আমি তো পোশাক নয়, একটা মারুতি গাড়ি উপহার পেয়েছি।


২৭-চেয়ার তো দুটি খালি
চিকিৎসক-রোগীর মধ্যে কথা হচ্ছে—
রোগী: স্যার, আমার সমস্যা হলো, আমি সবকিছুই দুটি করে দেখি।
চিকিৎসক: হুম্, রোগটা বেশ জটিল মনে হচ্ছে।
রোগী: একটা কিছু করেন স্যার। আমি খুব সমস্যায় আছি।
চিকিৎসক: ঠিক আছে, সামনের খালি চেয়ারটিতে আগে বসুন তো।
রোগী: চেয়ার তো দুটি খালি। তা কোনটাতে বসব স্যার?


২৮-

ঘুমের ওষুধ

নার্স ঘুমন্ত রোগীকে জোর করে ডেকে তুলছেন দেখে চিকিৎসক জিজ্ঞেস করলেন, আরে আরে, করছেন কী? অযথা ঘুমন্ত রোগীকে ডাকছেন কেন?
নার্স মুখ কাঁচুমাচু করে বললেন, ‘স্যার, রোগীর এখন ওষুধ খাওয়ার সময়। না ডাকলে সঠিক সময়ে তাঁর ওষুধ আর খাওয়া হবে না।’
চিকিৎসক রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে বললেন, তা কী সেই ওষুধ, যেটা তাকে এখনই খাওয়াতে হবে?
‘ঘুমের ওষুধ স্যার’, নার্সের জবাব।


২৯-

ওষুধের নাম লেখার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম

চিকিৎসকের কাছে এক রোগী এসে বলছেন, ‘ডাক্তার সাহেব, মনে হচ্ছে আমার জটিল রোগ হয়েছে। আমি সবকিছু শুধু ভুলে যাই।’
চিকিৎসক সব শুনে বললেন, তা কবে থেকে এই রোগ দেখা দিয়েছে আপনার?
রোগী অবাক হয়ে বললেন, ‘কোন রোগের কথা যেন বলছিলেন?’
চিকিৎসক আর কথা না বাড়িয়ে প্রেসক্রিপশন লিখে রোগীকে বিদায় করে দিলেন।
কিছুক্ষণ পর ওই রোগী আবারও চিকিৎসকের কাছে ফিরে এসে বললেন, ‘ডাক্তার, তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তো কোনো দোকানেই আমি আপনার লিখে দেওয়া ওষুধ কিনতে পারলাম না।’
এবার চিকিৎসক প্রেসক্রিপশনটা হাতে নিয়ে দেখে বললেন, ‘ওহ্, ওষুধের নাম লেখার কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। এখানে তো শুধু আমার স্বাক্ষরটা করে দিয়েছি।’


৩০-ধূমপান ছাড়ার চেষ্টা
চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে কথা হচ্ছে—
রোগী: স্যার, আমি অনেক দিন ধরেই ধূমপান ছাড়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু কিছুতেই ছাড়তে পারছি না। আপনি একটু পরামর্শ দিন না, স্যার।
চিকিৎসক: তা কত দিন ধরে ধূমপান ছাড়ার চেষ্টা করছেন?
রোগী: বছর দুয়েক তো হবেই।
চিকিৎসক: বলেন কী? শিগগির কোনো পেট্রলপাম্পে চাকরি খুঁজে নিন, সব ঠিক হয়ে যাবে।


৩১-ব্যবস্থা
পল্টু ও চিকিৎসকের মধ্যে ফোনালাপ—
পল্টু: চিকিৎসক, আমার ছেলে একটি ব্লেড গিলে ফেলেছে। একটু জলদি বাসায় চলে আসুন না!
চিকিৎসক: ভয়ের কোনো কারণ নেই। আমি শিগগির আসছি। আপনি কি অন্য কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন?
পল্টু: হুমম, বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক রেজর দিয়েই দ্রুত শেভটা করে নিচ্ছি।


৩২-

এত ওষুধ

শরীর ভালো ঠেকছে না বলে ডাক্তারের কাছে গেলেন শফিক সাহেব। ডাক্তার কতক্ষণ পরীক্ষা করে প্রেসক্রিপশন দিলেন, ‘এই লম্বা বড়িটা সকালবেলা দুই গ্লাস পানির সঙ্গে খাবেন। ক্যাপসুলটা খাবেন দুপুরে, দুই গ্লাস পানির সঙ্গে। আর এই সিরাপটা দিলাম, রাতে খেয়ে তারপর দুই গ্লাস পানি খাবেন।’
ওষুধের বহর দেখে শফিক সাহেব তো ঘাবড়ে গেলেন। বললেন, ‘এত ওষুধ! আমার হয়েছে কী, ডাক্তার?’
ডাক্তার বললেন, ‘আপনি ইদানীং পানি কম খাচ্ছেন।’


৩৩-

লাইট খাবার

রাতের বেলায় খাবার না খেয়ে সঞ্জু টিউব লাইটের নিচে গিয়ে মুখ হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছে। টিউবলাইটের নিচে অনেকক্ষণ সঞ্জুর দাঁড়িয়ে থাকা দেখে তাঁর স্ত্রী অবাক হয়ে বলল, ‘কী ব্যাপার! তুমি লাইটের নিচে মুখ হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছ কেন!’
‘আর বোলো না। ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি রাতের বেলায় লাইট (হালকা) খাবার খেতে বলেছেন। কিন্তু প্রায় এক ঘণ্টা হয়ে যাচ্ছে লাইটের নিচে মুখ হাঁ করে দাঁড়িয়ে আছি, পেট তো ভরছে না!’—


৩৪-আরও একটু হাঁ করুন
রোগী: ডাক্তার সাহেব, আমার দাঁতে প্রচণ্ড ব্যথা।
ডাক্তার: হাঁ করুন।
রোগী: হাঁ…।
ডাক্তার: আরও একটু হাঁ করুন।
রোগী: করছি তো।
ডাক্তার: আরও একটু।
রোগী: কী ব্যাপার, ডাক্তার সাহেব! আমার মুখের ভেতর বসে দাঁত খুলবেন নাকি



৩৫-

রোগী কিছুক্ষণ আগেই মারা গেছে

মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ছাত্রকে প্রশ্ন করলেন, ‘বলো তো রোগীর হূৎস্পন্দন কমতে থাকলে এই ওষুধটা ঠিক কী পরিমাণ দিতে হবে?’
ছাত্র বলল, ‘পাঁচ মিলিগ্রাম।’
অধ্যাপক কিছু না বলে পড়াতে শুরু করলেন। কিছুক্ষণ পর সেই ছেলেটা হাত তুলল, ‘স্যার, আমি ওষুধের পরিমাণটা পাল্টাতে চাই।’ অধ্যাপক উত্তর দিলেন, ‘কোনো লাভ নেই, তোমার রোগী কিছুক্ষণ আগেই মারা গেছে।’


৩৬-

জুতাগুলো কত দিন টিকবে

এক ডাক্তার গেছেন দোকানে। জুতা কিনে কাউন্টারে মূল্য পরিশোধ করার সময় দোকানদারের কাছে জানতে চাইলেন, ‘জুতাগুলো কত দিন টিকবে?’
‘এটা নির্ভর করছে ব্যবহারের ওপর। আপনি যদি জুতা পায়েই না দেন, তবে সারা জীবনেও এগুলোর কিছু হবে না।’ রসিকতা করে দোকানদার বললেন।
কিছুদিন পর ওই দোকানদার অসুস্থ হয়ে গেছেন ওই ডাক্তারের চেম্বারে। ডাক্তার তাঁকে দেখেটেখে ব্যবস্থাপত্র লিখে দিলেন। ফি জমা দেওয়ার সময় রোগী জিজ্ঞেস করলেন, ‘ভালো হতে কত দিন লাগতে পারে, ডাক্তার সাহেব?’
‘এটা নির্ভর করছে অনেক কিছুর ওপর। আপনি ওষুধগুলো না খেলে সারা জীবনেও কিছু হবে না।’ জবাব দিলেন ডাক্তার।


৩৭-আর কত দিন বাঁচব
শরীর ভালো লাগছিল না বলে এক ভদ্রলোক গেলেন ডাক্তারের কাছে।
ডাক্তার: আপনার জন্য দুঃসংবাদ আছে। আপনি খুব শিগগির মারা যাবেন।
রোগী: খুব শিগগির? আমি আর কত দিন বাঁচব, ডাক্তার?
ডাক্তার: ১০…
রোগী: ১০ কী? বছর, মাস, সপ্তাহ, দিন…?
ডাক্তার: ১০…৯…৮…৭…৬…




৩৮-দীর্ঘজীবন লাভের উপায়
ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে কথা হচ্ছে—
রোগী: আচ্ছা ডাক্তার সাহেব, দীর্ঘজীবন লাভের কোনো উপায় আছে?
ডাক্তার: বিয়ে করে ফেলুন।
রোগী: এতে দীর্ঘজীবন লাভ হবে?
ডাক্তার: না। তবে আপনার দীর্ঘজীবন লাভের ইচ্ছাটা মরে যাবে।


৩৯-

যখন ডাক্তারি করতাম

এক ডাক্তারের বাড়িতে পানির পাইপ নষ্ট হয়ে গেল। ডাক্তার একজন মিস্ত্রি আনলেন সারাই করতে। মিস্ত্রি কতক্ষণ খুটখাট করল। ডাক্তার দেখলেন পানির পাইপ ঠিক হয়ে গেছে। খুশি হয়ে তিনি মিস্ত্রিকে বললেন, ‘তোমাকে কত দিতে হবে?’ মিস্ত্রি জবাব দেয়, ‘৫০০ টাকা।’ ডাক্তার তো ভীষণ অবাক, ‘বলে কী! আরে এইটুকু সময়ের জন্য আমিও তো এত টাকা পাই না।’
‘যখন ডাক্তারি করতাম, তখন আমিও পেতাম না।’ মিস্ত্রির সাফসুতরো জবাব।




৪০-সমস্যাটা কী
রোগী: ডাক্তার, আমি সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকি, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, যখন-তখন রেগে যাই…
ডাক্তার: সমস্যাটা কী?
রোগী: গাধার বাচ্চা! কানে শুনিস না? এইমাত্রই তো বললাম তোকে!

৪১-ঋণ শোধ
: আপনার এ উপকার জীবনে ভুলব না ডাক্তার সাহেব। কত পরিশ্রম করে আমার প্রায় মরা ছেলেকে বাঁচালেন। আমি গরিব, কিছুই দিতে পারলাম না। গায়ে-গতরে খেটে যে-কোনো দিন আপনার এ ঋণ আমি অবশ্যই শোধ করব।
: তা, তুমি কী কাজ কর?
: লাশ ধোয়াই।



৪২-টোব্যাকো থেকে দুরে
গড়গড়া দিয়ে তামাক টানছেন এক ভদ্রলোক। নলটা অনেক লম্বা। গড়গড়াটা এক কোণে আর ভদ্রলোক বসে আছেন ঘরের অন্য কোণে।
এ সময় তার বন্ধু ঘরে ঢুকে বলল, কী ব্যাপার, সিগারেট ছেড়ে গড়গড়া টানছ কেন?
আর নলটাই বা এত লম্বা কেন?
ভদ্রলোক বললেন, ডাক্তার আমাকে টোব্যাকো থেকে দুরে থাকতে বলেছেন।


৪৩-

দেখি কোন শালা আমার দাঁত তুলতে আসে

ডেন্টিষ্টের চেম্বার।
: ভয়ের কিছু নেই, চট করে আপনার দাঁত তুলে দেব।
: না, না, ডাক্তার সাহেব, আমার ভীষণ ভয় করছে। যন্ত্রণায় আমি মরেই যাব।
: ঠিক আছে, এই নিন। খানিকটা ব্রান্ডি খেয়ে নিন। ব্রান্ডি খাওয়ার পর।
: কি, এখন সাহস বেড়েছে তো?
: নিশ্চয়ই বেড়েছে। এখন দেখি কোন শালা আমার দাঁত তুলতে আসে। হাত লাগাতে আসুক, বাপের নাম ভুলিয়ে দেব। এক ঘুসিতে দাঁত ফেলে দেব।


৪৪-পেশায় স্থান
কবর খোঁড়ার কাজ করে এমন এক লোক শহরের এক রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। হঠাৎ পেছন ফিরে সে দেখল তার পিছে পিছে একজন ডাক্তার আসছেন। সে দাঁড়িয়ে পড়ল। ডাক্তারকে আগে যেতে দিয়ে তাঁর পিছে পিছে সে হাঁটতে লাগল।
ডাক্তার জানতে চাইলেন, এ রকম করলে কেন?
লোকটি বলল, পেশায় আপনার পরেই তো আমার স্থান।


৪৫-

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ফুসকুড়ি উঠল দুকভের। ঘাড়ে। দুকভ গেল ডাক্তারের কাছে। ফুসকুড়ি প্রতিষেধক ওষুধ দিল ডাক্তার। দুকভ ওষুধ খেল, ঘুরে উঠল মাথা।
ডাক্তার বলল, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
দিল অন্য ওষুধ মাথা ঘোরা বন্ধ করার। দুকভ খেল। চুল পড়তে শুরু করল তার। দুকভ গেল ডাক্তারের কাছে।
ডাক্তার বলল, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
দিল টাক প্রতিষেধক ওষুধ। দুকভ খেল। শুরু হলো দাঁতব্যথা। দুকভ দৌড়াল ডাক্তারের কাছে।
ডাক্তার বলল, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
দাঁতের ব্যথা সারার ওষুধ দিল। দুকভ খেল। প্যারালাইসিস হয়ে গেল দুই পায়ে। দুকভ ডাক্তারের কাছে গেল কোনোমতে।
ডাক্তার আবার বলল, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
প্যারালাইসিস নিরাময়ের ওষুধ দিল। দুকভ খেল। কান কট্কট্ করতে শুরু করল।
দেখে ডাক্তার বলল, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
ক্লোরিন দিয়ে কান পরিষ্কার করল। খসে পড়ল দুকভের দুই কান।
ডাক্তার বলল, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
ইনজেকশন দিল। ৫০০ সিসি করে। মাথার দুই পাশে। দুকভের চোখ কপালে উঠে গেল।
ডাক্তার বলল, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
দুকভ জিজ্ঞেস করল, এখন কী করা?
ডাক্তার উত্তর দিল, বিদ্যুতের শক দিয়ে চিকিৎসা করা হবে।
শক দেওয়া হলো। প্রথমে ২২০ ভোল্ট, পরে ৩৮০। দুকভের দুই চোখ চলে গেল মাথার পেছনে।
ডাক্তার বলল, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
অপারেশন করল। প্রথমে সারা শরীরে দেখা দিল লাল লাল দাগ। পরে সবুজ সবুজ।
ডাক্তার বলল, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। আকুপাংচারে কাজ হতে পারে।
শরীরের যেখানে যেখানে সুচ ফোটানো সম্ভব, ফোটাল। পাথরের ব্যথা শুরু হলো কিডনিতে।
ডাক্তার বলল, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। জলচিকিৎসা করতে হবে।
কিডনির ব্যথা প্রবলতর হলো।
ডাক্তার বলল, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
পাথর গুঁড়ো করে ফেলতে হবে।
হাতুড়ি নিয়ে কাজে নেমে পড়ল ডাক্তার। দুকভের হার্ট অ্যাটাক হলো।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ডাক্তার বলল, ভান করতে আপনি যদিও ভালোই পারেন, তবু মেডিকেল লিভের একটা সার্টিফিকেট আপনাকে দিচ্ছি।
এক মাসের লিভ? জিজ্ঞেস করল দুকভ।
এক মাসের মানে? ডাক্তার বলল, শুধু আজকের। কাল থেকেই আবার কাজে যাবেন।
শুনেই মারা গেল দুকভ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল ডাক্তার, বের করে নিয়ে যাও ওকে। নেক্সট!


৪৬-

মার্বেলটি তাড়াতাড়ি বের করে দিন

রাম ও জনি দুই বন্ধু মার্বেল দিয়ে খেলতে খেলতে হুট করেই দৌড় দিল হাসপাতালের দিকে। রাম হাঁপাতে হাঁপাতে ডাক্তারকে বলল, ‘ডাক্তার, আমি একটি মার্বেল গিলে ফেলেছি। মার্বেলটা তাড়াতাড়ি বের করে দিন!’
ডাক্তার বললেন, ‘হুম্ দেখছি, দাঁড়াও। তা তোমার সঙ্গে ও কি তোমার বড় ভাই নাকি?’ এ কথা শুনেই জনি বলল, ‘না না, ডাক্তার, ওর গিলে ফেলা মার্বেলটি খেলায় আমিই জিতেছি। মার্বেলটি তাড়াতাড়ি বের করে দিন না, প্লিজ।’

৪৭-বংশগত রোগ
চোখের সমস্যার চিকিৎসার জন্য শ্যাম গেছে চিকিৎসকের কাছে।
চিকিৎসক: আরে এত অল্প বয়সে আপনার চোখে ছানি পড়ল কীভাবে?
শ্যাম: বলেন কী চিকিৎসক সাহেব!
চিকিৎসক: এত চিন্তার কিছু নেই। এটা বংশগত রোগ।
শ্যাম: মৃত্যুও তো বংশগত। তাই বলে কি এটা নিয়েও চিন্তা করব না?


৪৮-

খাওয়ার পর ক্ষুধা লাগে না

এক রোগী চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকেই বললেন, ‘চিকিৎসক সাহেব, কোনো কিছু খাওয়ার পর আমার আর কিছুতেই ক্ষুধা লাগে না। বেশ সমস্যায় পড়েছি এ নিয়ে। একটু চেক করে দেখুন তো।’
এ কথা শুনে চিকিৎসক বললেন, ‘হুম, আপনার অবস্থা তো দেখছি খুবই খারাপ।’
এ কথা বলে চিকিৎসক চিকিৎসাপত্রে কিছু ওষুধের নামসহ লিখে দিলেন, ‘প্রতিদিন একটা ওষুধ ঘুমানোর পর খাবেন, আরেকটা খাবেন ঘুম ভাঙার আগে।’


৪৯-

ফি-টা এবার পরিশোধ করুন

এক ভদ্রলোক চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলছেন—
ভদ্রলোক: আমার সন্তানের জীবন বাঁচানোর জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
চিকিৎসক: এখানে আমি কিছু নই। জীবন বাঁচানোর মালিক সৃষ্টিকর্তা। তার দয়ায় তো সবকিছু হয়।
ভদ্রলোক: হুম, তিনিই তো সবকিছুর মালিক।
চিকিৎসক: ঠিক আছে, আমার ফি-টা এবার পরিশোধ করুন।
ভদ্রলোক: না না ডাক্তার সাহেব, এটা আপনাকে দেব কেন? ফি-টা যাকে দেওয়ার তাকে দেব।


৫০-

কীভাবে উচ্চরক্তচাপ সৃষ্টি করে

এক রোগী ডাক্তারের কাছে গেছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর—
ডাক্তার: আপনার তো উচ্চরক্তচাপ আছে।
রোগী: মনে হয় এটা আমার পরিবার থেকেই এসেছে।
ডাক্তার: এটা আপনার বাবার দিক, না মায়ের দিক থেকে এসেছে বলুন তো?
রোগী: নাহ! এটা আমার বউয়ের পরিবার থেকে এসেছে।
ডাক্তার: বলেন কী? এটা কীভাবে হলো?
রোগী: একদিন তাদের সঙ্গে মিশলেই দেখবেন তাঁরা কীভাবে উচ্চরক্তচাপ সৃষ্টি করে।


৫১-

চোখের অপারেশন

এক ভদ্রমহিলার চোখে অপারেশনের পর হাসপাতালে চিত্কার-চেঁচামেচি দেখে ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন,
ডাক্তার: হয়েছেটা কী বলুন তো? চিত্কার করছেন কেন?
ভদ্রমহিলা: চিত্কার করব না কি হাসব? আপনার হাসপাতালে আমার মাথার পরচুলা চুরি হয়েছে।
ডাক্তার: আমাদের এখানে মনে হয় চুরি হয়নি। আর আপনি বুঝলেন কী করে যে আপনার পরচুলা চুরি হয়েছে?
ভদ্রমহিলা: অপারেশনের আগে পরচুলাটি সস্তা মনে হচ্ছিল। কিন্তু এখন অন্য রকম লাগছে, তাই।
ডাক্তার: চিন্তা করবেন না। আপনার চোখের অপারেশনটা মনে হয় সফলভাবেই হয়েছে।


৫২-

ব্রেইন ট্রান্সপ্লান্ট

ডাক্তার ল্যাব থেকে বেরিয়ে রোগীকে বললেন—‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, আপনার ব্রেইন-টিউমার এবং এটি এমন পর্যায়ে আছে যে এখন আর কোনো সার্জারিও সম্ভব নয়। তবে ভালো খবর হলো, আমরা ব্রেইন ট্রান্সপ্লান্টের অনুমোদন পেয়ে গেছি। আমরা চাইলে আপনাকে নতুন ব্রেইন দিতে পারি।’
রোগীটির কপাল ভালো যে, হাসপাতালে কিছুক্ষণ আগেই রোড অ্যাক্সিডেন্টে মারা যাওয়া এক তরুণ দম্পতির লাশ এসেছে।
ডাক্তার বললেন, ‘আপনি ইচ্ছা করলে এক লাখ টাকা দিয়ে পুরুষটির ব্রেইন নিতে পারেন, আর মহিলাটির ব্রেইন নিলে খরচ পড়বে ৩০ হাজার টাকা।’ রোগী জিজ্ঞেস করলেন, দামের এত পার্থক্যের কারণ কী?
ডাক্তার জানালেন, ‘মহিলাটি তাঁর ব্রেইন আগে ব্যবহার করেছেন।’


৫৩-ঘুম পালিয়ে যায়
: ডাক্তার সাহেব, দারুণ সমস্যায় পড়েছি। আমার রাতে ঘুমই আসে না, শুধু …
: শুধু?
: ইয়ে মানে শুধু মদ খেলেই আসে।
: তাহলে প্রতি রাতে পরিমানমতো একটু ড্রিংক করলেই তো পারেন।
: কিন্তু তারপর বিছানা খুঁজে পেতেই তো আবার ঘুম পালিয়ে যায়।


৫৪-

ছবি উপহার

একজন সিনিয়র চক্ষু বিশেষজ্ঞের জন্মদিনে হাসপাতালের সকল কর্মচারী মিলে তাকে একটি বিশাল বড় চোখের ছবি বাঁধিয়ে উপহার দিল। হাসপাতালের সব ডাক্তার এবং কর্মচারীর উপস্থিতিতে যখন সেটার মোড়ক উন্মোচন হল তখন কর্মচারীর ঘোষণা ছিল যে তারা সিন্ধান্ত নিয়েছে যে এখন থেকে সকল ডাক্তারের জন্মদিনেই এমন একটি করে ছবি তাদের উপহার দেবে। তাদের কথা শেষ হতে না হতেই একজন গোঁ গোঁ করে মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন। তিনি ছিলেন ওই হাসপাতালের সিনিয়র যৌন বিশেষজ্ঞ।


৫৫-

পানির তাপমাত্রা নির্ণয়

ডাক্তার-অধ্যাপক : ধর কোনো বাচ্চাকে গোসল করাবে, তা হলে তার পানির তাপমাত্রা মাপবে কীভাবে?
ছাত্র : এটা তো কোনো ব্যাপারই না। বাচ্চাকে প্রথমে পানিতে চুবিয়ে দেখতে হবে তার গায়ের রং কী হয়। যদি গায়ের রং লাল হয় তবে বুঝব পানি ঠান্ডা, যদি বেগুনি হয় তবে বুঝব পানি গরম, আর যদি বাচ্চার রং ফ্যাকাসে হয় তবে বুঝব তাকে আর গোসল করাবার দরকার নেই।



৫৬-

ডাক্তার লাগলে বলতে পারেন

ব্যস্ত রাস্তায় দুটো গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হল। আশপাশের লোকজন ছুটে গেল তাদের সাহায্য করতে। সবার আগে পৌছল একটি মহিলা। হঠাৎ ভিড় ঠেসে এক লোক ভেতরে ঢুকে গেল। সে বাকি সবার মতো মহিলাটিকেও ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে বলল সরুন সরুন আমাকে দেখতে দিন, আমার ফার্স্ট এইডের ওপর কোর্স করা আছে। ধাক্কা খেয়ে মহিলা কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে পড়ল। তারপর পেছন থেকে এসে তার ঘাড়ে আলতো টোকা দিয়ে বলল- ঠিক আছে দেখুন, কিন্তু ডাক্তার লাগলে আমকে বলতে পারেন। আমি পেছনেই আছি।


৫৭-

জেল থেকে বের

এক কয়েদি দুদিন পর পরই অসুস্থ হয়ে জেল ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়। এবার তাকে পরীক্ষা করে ডাক্তার জানাল তার একটি কিডনি কেটে ফেলে দিতে হবে। এটা শুনে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল কয়েদি।
: ডাক্তার ! আমি প্রথমবার যখন আসলাম তুমি আমার টনসিল কেটে নিলে, দ্বীতীয়বারে এ্যাপেন্ডিস, পরেরবার পাথর হয়েছে বলে গলব্লাডার কাটলে। আমি তোমার কাছে আসি এই আশা নিয়ে যে অসুস্থ বলে তুমি আমাকে জেল থেকে বেরুতে সাহায্য করবে আর তুমি নির্বোধ কিনা এখন উল্টো কিডনি কেটে ফেলার কথা বলছ !!!
: আরে ! এত রেগে যাচ্ছ কেন ! একবারে কি সব হয় নাকি? আমি তো একটু একটু করে তোমাকে জেল থেকে বের করেই নিচ্ছি।



৫৮-

ব্যাগটাই খুলতে পারলাম না

সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে ডাক্তারের রুমে ঢুকিয়ে বাইরে স্বামী অপেক্ষা করছে। একটু পর ডাক্তার বেরিয়ে এল, একটা লোহার রেঞ্জ নিয়ে আবার রুমে ঢুকল। কিছুক্ষণ পর এসে আবার এক জোড়া প্লায়ার্স নিয়ে ভেতরে ঢুকল। একটু পরে সে বাইরে এসে বড়সড় একটা হাতুড়ি নিয়ে যেই আবার রুমে ঢুকতে যাবে তখন স্বামী আর সহ্য করতে না পেরে ডাক্তারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে জিজ্ঞেস করল-সত্যি করে বল আমার স্ত্রীর কী হয়েছে?
ডাক্তার ভয় পেয়ে বলল-কী-কী করে বলি? এখনো তো আমার ব্যাগটাই খুলতে পারলাম না।


৫৯-

সমস্যার সমাধান

এক রোগী হন্তদন্ত হয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গেল-
: ডাক্তার সাহেব আমি আজ ছয় মাস যাবৎ বিছানায় ঘুমাতে পারি না। খাটের ওপর শোবার পর মনে হয় খাটের নিচে কেউ লুকিয়ে আছে। নিচে গিয়ে শুলে মনে হয় সে খাটের ওপরে। এভাবেই সারা রাত কাটিয়ে দেই … উপরে … নিচে…উপরে …নিচে … আমাকে আপনি বাঁচান।
সব শুনে ডাক্তার জানাল যে তার সমস্যাটা আসলেই ভয়াবহ, তবে চিকিৎসাযোগ্য। তাকে প্রতি মাসে চারবার করে টানা ছয় বছর ডাক্তারের কাছে এসে চিকিৎসা নিতে হবে। প্রতি সিটিঙের জন্য ফি দেড় শ ডলার।
এরপর আবারো এক বছর পর ডাক্তার-রোগীর দেখা।
: আরে ! আপনি ! ব্যাপার কী? আপনি সেই যে গেলেন আর আসলেন না কেন?
ডাক্তার জানতে চায়।
: প্রতি সিটিঙে দেড় শ ডলার দেবার জন্য? হাহ ! মাত্র দশ ডলার খরচ করেই আমার সেই সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে!-রোগী জানাল।
: কী ভাবে?
: একটা করাত কিনে খাটের পাগুলো কেটে ফেলে দিয়েছি।


৬০-

দিচ্ছেন কাগজের চশমা

একটা ছোট বাচ্চা চোখ দেখাতে গেল ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার তাকে বললেন
: খোকা তুমি ডান চোখ বন্ধ করে এ লেখাটি পড়ার চেষ্টা কর।
বাচ্চাটি ডান বাম বুঝতে পারল না। ডাক্তার তখন বললেন “ঠিক আছে তুমি তোমার ডান হাত দিয়ে ডান চোখ চেপে ধরে এ লেখাটি পড়ার চেষ্টা কর।” এবারও বাচ্চাটি ডান হাত বাম হাত গুলিয়ে ফেলল। ডাক্তার ধৈর্য হারালেন না। তিনি এবার নতুন বুদ্ধি করলেন। একটা কাগজে দুটো ফুটো করলেন। এবার একটা ফুটো তিনি নিজেই চেপে ধরে অন্য ফুটোটি বাচ্চার এক চোখের সামনে ধরে বললেন, এবার পড় তো লেখাটি-বাচ্চাটি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল।
: কী হল তোমার?
: ই ই ই আমি বড় ভাইয়ের মতো কাচের চশমা চাচ্ছিলাম আর আপনি দিচ্ছেন কাগজের চশমা ই ই ই ….



৬১-দরজাটা কিছুতেই খুলছে না
: ডাক্তার সাহেব প্রতি রাতে আমি স্বপ্ন দেখি একটা দরজার হাতল ধরে টানছি কিন্তু দরজাটা কিছুতেই খুলছে না।
: হুম দরজার উপর কিছু লেখা থাকে।
: হ্যাঁ লেখা থাকে “PUSH”


৬২-গাড়িটা বেচতে হল
: দেখুন ডাক্তার সাহেব আমার দুপা ফুলে কী হয়েছে।
: কী করে হল?
: ঐ যে গত মাসে আপনি আমার স্ত্রীর চিকিৎসা করলেন তারপর থেকেই ….
: স্ত্রীর চিকিৎসার সঙ্গে আপনার পা ফোলার সম্পর্ক কী?
: মানে স্ত্রীর চিকিৎসার বিল মেটাতে গিয়েই তো গাড়িটা বেচতে হল … তারপর থেকেই ….।


৬৩-গর্ত ফিলিং না করলেই নয়
জনৈক ডেন্টিস্ট গলফ খেলতে রওনা দেবেন এমন সময় ফোন এল-
: ডাক্তার সাহেব বাঁচান, প্রচন্ড ব্যথা, দাঁতের গর্তটা ফিলিং না করলেই নয়….
: কিন্তু এই মুহুর্তে আমাকে ১৮টা গর্ত ফিলিং না করলেই নয়।


৬৪-

ভিজিট দেবার ইচ্ছে

রোগী : জানেন ডাক্তারবাবু ইচ্ছে নামক জিনিসটাই আমার মন থেকে চলে গেছে।
খেতে ইচ্ছে করে না। কারুর সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। সিনেমা, থিয়েটার, খেলাটেলা কিছুইতে আমার ইচ্ছে নেই।
(ডাক্তারবাবু পরীক্ষা করে প্রেসক্রিপশান লিখে দিলেন। রোগী উঠে পড়ল)
রোগী : চলি ডাক্তারবাবু।
ডাক্তার : কিন্তু আমার ভিজিটটা?
রোগী : তাহলে আমাকে এতক্ষণ ধরে কী একজামিন করলেন? দেখি আপনার ওষুধ খেয়ে, তখন যদি আপনাকে ভিজিট দেবার ইচ্ছেটা হয়, দিয়ে যাব।



৬৫-

শেষবারের মতো বলছি

এক লোক তার স্ত্রীর ব্যাপারে বেশ চিন্তিত হয়ে ডাক্তারের কাছে গেলেন।
: ডাক্তার সাহেব আমার স্ত্রীর বোধ হয় কানে শোনার সমস্যা আছে। আমি যেই প্রশ্নই করি না কেন সে কোনো জবাব দেয় না, মনে হয় যেন শুনতেই পায় না।
: দেখুন পরীক্ষা না করেই তো আর অবস্থা বোঝা যায় না। আপনি এক কাজ করুন। আজ বাসায় যেয়ে তার থেকে অন্তত পনের হাত দুরে দাঁড়িয়ে যে কোনো একটা প্রশ্ন করবেন, সে শুনতে না পেলে আরেকটু কাছে যেয়ে আবার একই প্রশ্ন করুন । এভাবে সে না শোনা পর্যন্ত বলতে থাকুন। তারপর কাল এসে আমাকে জানিয়ে যাবেন।
ভদ্রলোক বাড়ি ফিরে দেখলেন স্ত্রী রান্নাঘরে কাজ করছে। তিনি দরজার কাছ থেকে জানতে চাইলেন রাতের খাবার কী? কিন্তু স্ত্রীর কাছ থেকে কোনো জবাব পেলেন না। তিনি রান্নাঘরের কাছে গিয়ে আবারো জানতে চাইলেন রাতে সে কী রান্না করছে। এবারও কোনো জবাব নেই। লোকটি এবার তার স্ত্রী থেকে মাত্র দু হাত দুরে দাঁড়িয়ে একই প্রশ্ন করলেন। কিন্তু তবু স্ত্রীকে কোনো জবাব না দিতে দেখে তিনি চিন্তিত হয়ে একদম তার কানের কাছে গিয়ে আবার একই প্রশ্ন করলেন। এবারে স্ত্রী ঘুরে দাঁড়িয়ে রাগী ভঙ্গিতে বলল- ‘চতুর্থ এবং শেষবারের মতো বলছি, রাতের খাবার মুরগি ও ডিম ভুনা’।

৬৬-

পাগলামির লক্ষণ

মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে এক লোক। ডাক্তার এলেন। রোগীকে দেখেশুনে বললেন, ‘এত দেরি করলেন কেন আমাকে ডাকতে? এ তো দেখছি পাগলামির লক্ষণ প্রকট হয়ে উঠেছে। এই স্টেজে আমার আর কী করার আছে বলুন?’
রোগীর আত্মীয় বললেন, ‘কী করব বলুন, ডাক্তার সাহেব। যতক্ষণ মাথা ঠিক ছিল, ততক্ষণ কি আর উনি ডাক্তার ডাকতে দিয়েছেন? যেই বললেন, বোলাও ডাক্তার, তক্ষুনি আপনাকে কল দিয়েছি।’


৬৭-

দাঁত আর তুলব না

‘মাত্র দু’টাকার দাঁত তোলা হয়’ এই সাইনবোর্ড দেখে হাড় কিপটে এক বুড়ো ভিতরে ঢুকল। ডাক্তারখানায় বেশ ভিড়। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর তার ডাক এল। কিন্তু একটা দাঁত তোলার পর ডেন্টিষ্ট রিবক্ত হয়ে বলল, যান, আপনার দাঁত আর তুলব না। দিন চল্লিশ টাকা দিন।
: চল্লিশ টাকা কেন ? দাঁত তো মাত্র একটা তুলছেন।
: আপনার চেঁচানি শুনে আমার উনিশ জন রোগী পালিয়ে গেছে। তাঁদের একটা করে দাঁত তুললেও আমি পেতাম আটত্রিশ টাকা।



৬৮-

হেঁটেই এসেছি

এক রোগী ডাক্তার সাহেবের কাছে এসেছেন তাঁর পাওনা মেটাতে। ডাক্তার সাহেব তাঁর পাওনা বুঝে নিয়ে আনন্দের সাথে অন্যান্য রোগীদের শুনিয়ে বললেন, কি আমি ঠিক বলি নি, আপনি দু’ মাসের মধ্যে হাঁটতে পারবেন?
: হ্যাঁ, তা বলেছিলেন। আমি হেঁটেই আপনার এখানে এসেছি। কারণ আপনার ফিস মেটাতে গতকাল আমার গাড়িটা বিক্রি করতে হয়েছে।



৬৯-দাঁত তুলতে কত
: একটা দাঁত তুলতে কত নেবেন, ডাক্তার সাহেব?
: এক শ’ টাকা।
: এটা তো মাত্র দু’ মিনিটের কাজ, এর জন্য এক শ’টাকা?
: আপনি চাইলে দু’ মিনিটের জায়গায় দু’ ঘন্টা ধরে তুলতে পারি।


৭০-

আগে বিড়ালটা বের করি

: ডাক্তার জলদি আসুন। আমার স্ত্রী হাঁ করে ঘুমাচ্ছিল তার মুখ দিয়ে একটা ইঁদুর ঢুকে গেছে।
: আপনি উনার মুখে এক টুকরো কেক নাড়তে থাকুন আমি আসছি।
ডাক্তার এসে দেখেন লোকটি তার মুখে কেক না নেড়ে মাছের কাঁটা নাড়ছে।
: ও কী করছেন, আপনাকে না কেক নাড়তে বললাম ?
: দাঁড়ান, দাঁড়ান আগে তো বিড়ালটা বের করি।


৭১-

আগে বিড়ালটা বের করি

: ডাক্তার জলদি আসুন। আমার স্ত্রী হাঁ করে ঘুমাচ্ছিল তার মুখ দিয়ে একটা ইঁদুর ঢুকে গেছে।
: আপনি উনার মুখে এক টুকরো কেক নাড়তে থাকুন আমি আসছি।
ডাক্তার এসে দেখেন লোকটি তার মুখে কেক না নেড়ে মাছের কাঁটা নাড়ছে।
: ও কী করছেন, আপনাকে না কেক নাড়তে বললাম ?
: দাঁড়ান, দাঁড়ান আগে তো বিড়ালটা বের করি।


৭২-

নুডিস্ট কলোনির ঠিকানা

: ডাক্তার সাহেব দেখেন আমার দুই পায়ের অবস্থা। আপনার ট্রিটমেন্টে দুই পা ফুলে কী হয়েছে। কাল থেকে তো মনে হচ্ছে প্যান্টই পরতে পারব না … এখন কী করবেন করেন।
ডাক্তার খস খস করে একটা কাগজে কিছু লিখে পা ফোলা রোগীর দিকে বাড়িয়ে দিল।
: এটা কী ?
: নুডিস্ট কলোনির ঠিকানা ।


৭৩-

সেলাই

এক লোক মারাত্মক আহত হয়েছে। হাতে লম্বা সেলাই লাগবে। আপারেশন টেবিলে শুয়ে সে কাতর চোখে ডাক্তারকে বলল
: ডাক্তার সাহেব একটা কথা…
: কী কথা বুঝতে পেরেছি আর বলতে হবে না …. সেলাইয়ের সময় যেন ব্যথা না দেই এই তো ?
: না না, তা নয় ডাক্তার সাহেব, সেলাই তো করবেনই লগে আমার শাটের হাতার বোতামটাও একটু সেলাইয়া দিয়েন, ছুইটা গেছে।


৭৪-সাহস দিচ্ছিলেন
: এ কী! অপারেশন থিয়েটার থেকে আপনি ছুটে পালাচ্ছেন কেন?
: কারণ নার্সটি বলেছিল, ভয় পাবার কী আছে? এ তো খুব সহজ অপারেশন।
: নার্স ভালোই বলেছেন, তিনি আপনাকে সাহস দিচ্ছিলেন।
: আমাকে নয়, আমাকে নয় তিনি সাহস দিচ্ছিলেন ডাক্তারকে।

৭৫-কারন বাঁচতে হবে
এক অধ্যাপক অসুখ হলেই দেরি না করে ডাক্তার ডাকতেন। কারণ ডাক্তারকে তো খেয়ে পরে বাঁচতে হবে। রোগীরা না ডাকলে তো সে অনাহারে মারা যাবে। তারপর ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ কিনে আনতেন। কারন ফার্মেসিওয়ালাদেরও তো বাঁচতে হবে। কিন্তু ওই ওষুধ কখনো খেতেন না তিনি। কারন তাঁকেও তো বাঁচতে হবে।


৭৬-ভুলে যাওয়ার ব্যামো
রোগীঃ ডাক্তার, আমার না ভুলে যাওয়ার ব্যামোয় ধরেছে।
ডাক্তারঃ কবে থেকে এই রোগের শিকার হয়েছেন?
রোগীঃ অ্যাই ডাক্তার, কোন রোগের কথা বলছিস? আমি দিব্যি সুস্থ। খালি পয়সা বের করার ধান্দা, না।

৭৭-ট্যাবলেট খাওয়ার জায়গা
এক ছেলে মিষ্টি খেতে খেতে পেট ভরে একেবারে অজ্ঞান হয়ে গেছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর-
ডাক্তারঃ একটু হাঁ করে এই ট্যাবলেটটা খাও তো, বাবা।
রোগী ছেলেঃ এই ট্যাবলেট খাওয়ার জায়গা থাকলে আমি আরেকটি মিষ্টি খেতাম।


৭৮-

চশমা খোঁজার অধিকার

জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রচণ্ড গরমে এক দুপুরে কোনো একটা প্রেক্ষাগৃহে এক বিচিত্রানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। ঘটনাক্রমে সেদিন এয়ারকন্ডিশনার যন্ত্র বিকল থাকায় শুধু পাখার ব্যবস্থা ছিল। তবু গরমের প্রচণ্ডতায় কয়েকজন অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাঁদের সঙ্গে সঙ্গে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
হঠাৎ এক বুড়োমতো ভদ্রলোককে মেঝেতে হামাগুড়ি খেয়ে পড়তে দেখলেন তাঁরই পাশে বসা ফার্স্ট এইডের ট্রেনিং নেওয়া ভদ্রমহিলা। তিনি সঙ্গে সঙ্গে উবু হয়ে বসে ভদ্রলোককে পরামর্শ দিলেন, ‘মাথাটা দুই হাঁটুর মধ্যে গুঁজে চুপচাপ বসে থাকুন। মাথায় রক্ত চলাচল হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।’
ভদ্রলোক যতবারই উঠে বসতে চান, মহিলাটি ততবারই তাকে জোর করে দুই হাঁটুর মধ্যে মাথা গুঁজে বসে থাকতে বাধ্য করেন আর বলেন, ‘এই তো এক্ষুনি সব ঠিক হয়ে যাবে।’
না পেরে ভদ্রলোক শেষে চেঁচিয়ে উঠে বললেন, ‘একটা লোকের চশমা হারিয়ে গেলে তা খোঁজার কোনো অধিকারও কি থাকবে না? আমি তো আমার চশমা খুঁজছিলাম মেঝেতে।’

৭৯-আবার আসবেন
সাদেক সাহেব অসুস্থ হয়ে কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এ সময়টুকু একজন হাসপাতালকর্মী তাঁকে খুব সাহায্য-সহযোগিতা করেন। ফলে রিলিজ হওয়ার দিন সাদেক সাহেব তাঁকে বেশ ভালো বকশিশ দিলেন। এত বকশিশ পেয়ে ওই কর্মচারী আনন্দে কেঁদে ফেলে বলল, ‘আবার আসবেন, স্যার।’


৮০-

কী জ্ঞান মামার

ছোট মামাকে নিয়ে ডাক্তারখানায় গেলাম। সারা শরীরে ব্যথা। ডাক্তার মামাকে দেখে প্রেসক্রিপশন লিখে হাতে ধরিয়ে দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে মামা আমাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে গেল। বলল, ‘হায় হায়! তাড়াতাড়ি চল, আমার ব্যাগ রেখে এসেছি।’ বলেই দ্রুত প্রস্থান করল। বাইরে এসে মামা বলল, ‘আরে হাঁদারাম, ডাক্তার যখন প্রেসক্রিপশন লিখছিল, দেখলাম শুধু নাপা ট্যাবলেট দিয়েছে, দুই দিনে ছয়টি খাওয়ার জন্য। ছয়টি ট্যাবলেট খেলে যদি অসুখ ভালো হয়ে যায়, তাহলে ৫০০ টাকা ভিজিট দিয়ে লাভ কী? তাই বুদ্ধি করে চলে এলাম।’ কী জ্ঞান মামার!

বাংলা কৌতুক 'চোর-পুলিশ'

১-

জেনেশুনে অপরাধ

তিন বন্ধু একটি মোটরসাইকেলে চড়ে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে। কিছুদূর যাওয়ার পর ট্রাফিক তাদের থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘একটি মোটরসাইকেলে তিনজন ওঠা আইনত অপরাধ, এটা আপনারা জানেন না?’
‘জানি’, জবাব দিল একজন।
ট্রাফিক রেগে বলল, ‘জানেন তো একটি মোটরসাইকেলে তিনজন উঠেছেন কেন?’
‘জেনেশুনে অপরাধ করব না বলেই তো আমাদের একজনকে বাসায় রেখে আসতে যাচ্ছি, স্যার।’



২-দৌড় প্রতিযোগিতা
একটা কাপ নিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে ঘরে ঢুকল স্বামী। তাই দেখে তার স্ত্রী বলল, ‘একি! এত হাঁপাচ্ছ কেন? এই কাপটাই বা কোথায় পেলে?’
স্বামী: দৌড় প্রতিযোগিতায় দুজনকে হারিয়ে এটা পেলাম।
স্ত্রী: মাত্র তিনজন নিয়ে দৌড় প্রতিযোগিতা?
স্বামী: হ্যাঁ, প্রথমে আমি, তারপর পুলিশ আর সবার পেছনে এই কাপটার মালিক।



৩-

রাস্তার লাল বাতি

হাবলু রাস্তা দিয়ে গাড়ি হাঁকিয়ে যাচ্ছে। একসময় রাস্তার লাল বাতি জ্বলে উঠল। কিন্তু হাবলুর থামার কোনো নামগন্ধ নেই। লাল বাতি পেরোতেই ট্রাফিক পুলিশ হাবলুকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, ‘রাস্তায় লাল বাতি জ্বলে উঠেছে, দেখতে পারছেন না? লাল বাতি জ্বলে উঠলে যে থামতে হয় তাও জানেন না না কি!’ ‘লাল বাতি জ্বলে ওঠা তো দেখেছি, কিন্তু আপনি যে দাঁড়িয়ে ছিলেন এটা দেখতে পারিনি, স্যার।’ হাবলুর জবাব।


৪-

স্ত্রীকে ফেরত দিতে

মিনিট দশেক তাড়া করে গতিবিধি লঙ্ঘন করা এক ড্রাইভারকে থামাল ট্রাফিক পুলিশ, বলল, আমি থামতে বলা সত্ত্বেও কেন আপনি থামেননি?
এক মুহূর্ত ভেবে নিয়ে ড্রাইভার বলল, আসলে হয়েছে কি, গত সপ্তাহে আমার স্ত্রী এক ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। তো আপনাকে আমার পেছনে ছুটতে দেখে মনে হলো, আমার স্ত্রীকে ফেরত দিতেই আপনি আমার পিছু নিয়েছেন।



৫-কয়টা গুলি নেবেন
সাতসকালে বন্দুকের দোকানে এসে হাজির হলো রিয়াজ। বেছে বেছে ভালো দেখে একটা বন্দুক কিনল। দোকানের ম্যানেজার জিজ্ঞেস করল, ‘স্যার, কয়টা গুলি নেবেন?’
রিয়াজ বলল, ‘দাঁড়ান, একটা ফোন করে নিই, “হ্যালো, তেরামেরা ব্যাংক, মহাখালী শাখা? আচ্ছা, ওপর-নিচ মিলিয়ে আপনাদের মোট কয়জন গার্ড আছে…।”



৬-পুলিশকে আবার কুকুরে কামড়ায় নাকি
পরিচিত এক পুলিশের পায়ে ব্যান্ডজ দেখে এক লোক জানতে চাইল, কী ভাই, পায়ে কী হয়েছে?
: কুকুরে কামড় দিয়েছে?
: পুলিশকে আবার কুকুরে কামড়ায় নাকি?
: তখন তো ইউনিফর্ম পরা ছিল



৭-

গুলিস্তানের পকেটমার

গুলিস্তানের পকেটমারদের সুনাম শুনে এক লোক গুলিস্তানে এল ব্যাপারটা দেখার জন্য। সে বুক পকেটে একটা একশ টাকার নোট নিয়ে সারা গুলিস্তানে ঘুরে বেড়াতে লাগল। সারা দিন কেটে গেল কিন্তু কোনো খবর নেই। পকেটের টাকা পকেটেই পড়ে রইল। সন্ধ্যায় একটা পান দোকান থেকে পান কিনতে কিনতে দোকানদারকে বলল, কই গুলিস্তানের পকেটমাররা নাকি দেশের সেরা কিন্তু তার তো কোনো পরিচয় পেলাম না। একটু দূরে দাঁড়ানো এক ছেলে তখন বলল, জাল নোট নিয়ে ঘুরে বেড়ালে কে আপনার পকেট মারবে?


৮-আবার ফিরতে হবে
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামিকে দু’জন গার্ড ফায়ারিং স্কোয়াডের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ পথ। প্যাচপেচে কাদা! পা দেবে যায়।
আসামি বলল, হাঁটতে খুব কষ্ট হচ্ছে
: আমাদের কথা একবার ভাবুন। এই কাদা মাড়িয়ে আবার ফিরতে হবে।



৯-কুসংস্কার
চোর : জলদি, পুলিশ আসছে! জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়।
সহকারী : কিন্তু ওস্তাদ, আমরা যে এখন তের তলায় আছি।
চোর : দুর গাধা! এখন কি কুসংস্কার নিয়ে মাথা ঘামানোর সময়।





১০-

কোথায় গেল সে

সেলুনে ব্যাপক ভিড়। ক্ষৌরকার জ্যাকোবের দম ফেলার সময় নেই। এমন সময় বাবরিচুলের এক আউলা-ঝাউলামতো লোক এসে বলল, ‘সবার চুল-দাড়ি কাটতে আর কতক্ষণ লাগবে তোমার?’
জ্যাকোব বসে থাকা সবাইকে দেখে বলল, ‘এই ধরো আর ঘণ্টা দুয়েকের মতো।’
‘আচ্ছা ঠিক আছে, আমি না হয় দুই ঘণ্টা বাদেই আসি।’ বলে বাবরিচুলের সেই লোক বিদায় নিল তো নিল, সেদিন আর এলই না।
সপ্তাহ না ঘুরতে একই কাণ্ড। লোকটা এল, লম্বা লাইন দেখে কতক্ষণ লাগবে শুনে বিদায় নিল। এবং যথারীতি ফিরে এল না। এমন করে আরও দুবার বাবরিচুলের লোকটা মুখ দেখিয়েই বিদায়! তো শেষে লোকটার অমন সন্দেহজনক আচরণ দেখে পঞ্চম দিন তার পেছনে পিকো নামের এক ছেলেকে লাগিয়ে দিল জ্যাকোব, ‘যাও তো, দেখে এসো, ব্যাটা কই যায়, কী করে।’ ঘণ্টাখানেক বাদে পেছনে লাগানো সেই টিকটিকিটি এসে হাঁপাতে লাগল। ‘বিষয়টা কী? কী দেখলে তুমি, কোথায় গেল সে?’
‘কী আর দেখব, তোমার বাড়িতে গেল সে!’ ‘কেন, আমার বাড়িতে কেন?’ পিকো ছেলেটা তখনো হাঁপাচ্ছিল, ‘কেন আবার, চুরি করতে



১১-স্বীকার করলেই…
চোর ধরা পড়েছে। বাবা ছেলেকে জিজ্ঞেস করল, ‘কিরে, বাইরে এত হইচই হচ্ছে কেন। পুলিশে দিয়ে দিলেই পারে।’
ছেলে: বাবা, একটা না তো দুজন চোর ধরা পড়েছে। কিন্তু তারা যে মাসতুতো ভাই তা কোনো অবস্থাতেই স্বীকার করছে না, তাই ধরে মারছে। স্বীকার করলেই পুলিশে দিয়ে দেবে।




১২-

যে দরে কিনেছিলাম সেই দরেই বেচেছি

এক গাঁয়ের এক চোর একটা সাইকেল চুরি করে বাজারে নিয়ে গেল বিক্রি করতে। এক টাউট লোক এসে সাইকেলটা দরদাম করল কিছুক্ষণ। তারপর ‘দেখি তোমার সাইকেলটা কেমন চলে’ বলে সাইকেলে চড়ে প্যাডেল মেরে একেবারে হাওয়া।
শুকনো মুখে বাড়ি ফিরছিল চোর। গাঁয়ের যারা তাকে সাইকেল বিক্রি করতে নিয়েযেতে দেখেছিল তারা জানতে চাইল, কি, সাইকেল বিক্রি করে কত লাভ হলো?
চোর বলল, লাভ হয়নি; যে দরে কিনেছিলাম সেই দরেই




১৩-

কাইট্টা হালবাম

ঢাকা টু ময়মনসিংহের বাসে একবার ডাকাত পড়ল! ডাকাত দল পুরো বাস তাদের নিয়ন্ত্রণে নিল! এবার শুরু হবে লুটপাট! ডাকাতের সর্দার ইয়া লম্বা একটা ছোরা বের করে ঘোরাতে ঘোরাতে সবাইকে উচ্চ কণ্ঠে বলছে, ‘দিয়া হালাইন গো, যা আছে সব দিয়া হালাইন!!’
সবাই যার যা আছে বের করে দিতে শুরু করল! এক লোক তাঁর টাকা-পয়সা সব দিতে দিতে ‘দিয়া হালাইন’ কথাটা শুনে আর হাসি ধরে রাখতে পারছিলেন না! হেসেই ফেললেন! তখন ডাকাতের সর্দার তাঁর হাসি দেখে চোখ গরম করে বলে উঠল, ‘দিয়া আবার হাসুইন? এক্কেরে কাইট্টা হালবাম



১৪-ডাকাতির মাল
: তোমার ব্যাংক ডাকাতির অভিজ্ঞতা আছে মানছি। কিন্তু তুমি যে ব্যাংকগুলির নাম বললে তার মধ্যে সাউথ লিবার্টি ব্যংকের নাম নেই কেন?
: ওই ব্যাংকেই যে আমার ডাকাতির মাল জমা আছে।



১৫-

বিয়েতে যাচ্ছিলাম

রাস্তায় দ্রুত গাড়ি চালানোর কারণে এক তরুণকে পুলিশ অফিসার আটক করেছেন। লোকটার শুধু একটাই কথা, ‘আগে আমার কথা তো শুনুন।’
কিন্তু পুলিশ অফিসারও নাছোড়বান্দা। ‘না, কোনো কথাই শুনব না। জেলের বড় কর্তা না আসা পর্যন্ত তোমাকে কিছুতেই ছাড়া যাবে না।’
ঘণ্টাখানেক পর পুলিশ অফিসার ওই তরুণকে বললেন, ‘তুমি আসলে ভাগ্যবান। আজকে আমাদের বড় স্যারের মেয়ের বিয়ে। তাই আজ তিনি যখন অফিসে আসবেন, তখন তাঁর মেজাজ খুবই ঠান্ডা থাকবে।’
এতক্ষণে কথা বলার সুযোগ পেয়েই তরুণ হাউমাউ করে বলে উঠল, ‘বড় কর্তা এলে আপনার খবর আছে। আমিই তাঁর মেয়ের হবু বর! বিয়েতে যাচ্ছিলাম।’



১৬-

সত্যিকারের লাইসেন্স

ভোরবেলায় রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে এক পুলিশ অফিসার সে গাড়ির চালককে জানাল যে, সে দিনের প্রথম সিটবেন্ট পরিধানরত গাড়ি চালক হিসেবে ‘নিরাপত্তা দিবস’ উপলক্ষে দশ হাজার টাকা পুরস্কার পেতে যাচ্ছে।
পুলিশ অফিসার সাধারণ কৌতুহলে জানতে চাইল-
: তুমি এই টাকা দিয়ে কী করবে?
চালক চোখ বুজে বলল-
: এই টাকা দিয়ে ড্রাইভিং টেস্ট দিয়ে আমি সত্যিকারের একটা লাইসেন্স নেব।



১৭-

শাস্তি হবে কিনা

পুলিশকে বানর বলেছে বলে এক ব্যক্তির চার মাসের জেল হয়ে গেল। রায় হবার পর সে বিচারকের কাছে জানতে চাইল সে যদি পুলিশকে বানর না বলে বানরকে পুলিশ বলে তাহলেও কি তার শাস্তি হবে কিনা। বানররা নালিশ করতে পারে না, কাজেই বিচারক জানালেন যে, না, তার কোনো শাস্তি হবে না। এটা শুনেই সে ব্যক্তি পাশে দাঁড়ানো সকল পুলিশের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল- ‘বানর!বানর !!!’



১৮-

শাস্তি হবে কিনা

পুলিশকে বানর বলেছে বলে এক ব্যক্তির চার মাসের জেল হয়ে গেল। রায় হবার পর সে বিচারকের কাছে জানতে চাইল সে যদি পুলিশকে বানর না বলে বানরকে পুলিশ বলে তাহলেও কি তার শাস্তি হবে কিনা। বানররা নালিশ করতে পারে না, কাজেই বিচারক জানালেন যে, না, তার কোনো শাস্তি হবে না। এটা শুনেই সে ব্যক্তি পাশে দাঁড়ানো সকল পুলিশের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল- ‘বানর!বানর !!!’



১৯-কিছুই শোন যচ্ছিল না
ডাকাতির পর তদন্ত করতে এসেছে পুলিশ। তারা পাশের বাড়ির লোকদের কাছে জানতে চাইল তারা সেদিন রাতে ওদিক থেকে আসা কোনো সন্দেহজনক শব্দ পেয়েছিল কিনা।
ও বাড়ির মালিক জানাল- ‘খেয়াল করি নি, আসলে ও পাশ থেকে এত জোরে ধুপধাপ আওয়াজ আসছিল আর কুকুরটা এত বিকট আওয়াজ করছিল যে কিছুই শোন যচ্ছিল না।’



২০-৫০০ টাকার নকল নোট
: শুনলাম তুই নাকি ৫০০০ টাকা বেতনের চাকরি ছেড়ে দিয়ে এখন মাত্র ৪৯৯ টাকা বেতনের চাকরি করছিস?
: ঠিকই শুনেছিস আমি কি তোদের মতো গর্দভ নাকি? জানিস না ৫০০ টাকার নকল নোট বেরিয়েছে বাজারে, ঐ টাকা যার কাছে পাওয়া যাবে পুলিশ তাকেই গ্রেফতার করবে।






২১-

তিনজন চড়ার অনুমতি নেই

দুজন ধর্মযাজক প্রচন্ড গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে দেখে একজন পুলিশ অফিসার তাদের থামিয়ে এত জোরে মোটরবাইক চালানোর বিপদ ব্যাখ্যা করল।
তার কথা শুনে একজন ফাদার বললেন-‘অসুবিধা নেই বৎস, আমাদের সাথে ঈশ্বর আছেন!’
একথা শুনে অফিসার তার ব্যাগ থেকে কেস করার কাগজপত্র বের করতে করতে বলল-‘দুঃখিত ফাদার তাহলে আমাকে আপনার বিরুদ্ধে কেইস করতেই হচ্ছে, কারণ এক বাইকে তিনজন চড়ার অনুমতি নেই।






২২-ছবি তোলার সময়
বাচ্চারা শিক্ষা সফরে গেছে থানায়। বুলেটিন বোর্ডে “ওয়ান্টেড’’ক্রিমিনালদের এক গাদা ছবি ঝুলছে দেখে একটি ছোট মেয়ে পুলিশ অফিসারকে জিজ্ঞেস করল, তোমরা কি আসলেই ওদেরকে ধরতে চাও?
নিশ্চয়ই! পুলিশ অফিসার জানাল।
ছোট মেয়েটি আশ্চর্য হয়ে আবার জিজ্ঞেস করল, তাহলে ছবি তোলার সময়ই ওদের রেখে দিলে না কেন?



২৩-

আমিও বিড়াল

ওস্তাদ চোর তার চেলাকে হাতেকলমে শিক্ষা দিতে এক গৃহস্থবাড়িতে ঢুকেছে চুরি করতে।
অনেক কায়দা করে ঘরে ঢুকে অন্ধকার কিছু একটার ধাক্কা লেগে শব্দ হল-ঠং।
গৃহস্থ ঘুমের ঘোরে বলে উঠলেন-কে রে?
ওস্তাদ চোর সঙ্গে সঙ্গে বিড়ালের গলা নকল করে ডেকে উঠল- ম্যাঁও। গৃহস্থ বিড়াল ভেবে আবার চোখ বুজলেন।
এরপর চ্যালা চোরের হাতে লেগে কী একটা পড়ে ঝন ঝন শব্দ করে উঠল।
গৃহস্থ আবার বললেন, কে রে? কে ওখানে?
চ্যালা চোর সঙ্গে সঙ্গে বুদ্ধি করে বলল, হুজুর, আমিও বিড়াল।




২৪-বন্ধুদের সাথে লুকোচুরি
এক ভদ্রলোক তার খাটের নিচে একটি চোরকে লুকিয়ে থাকতে দেখে অবাক হলেন। চোরটিকে ধরতেই সে কেঁদে বলল, আমি চুরি করতে আসি নি। বন্ধুদের সাথে লুকোচুরি খেলতে এসে এখানে লুকিয়েছি।
: বন্ধুরা কই?
: পাশের বাড়িতে ডাকাতি করছে।



২৫-

আমি একটি মুরগি চুরি করেছিলাম

গির্জায় কনফেশন চলছে—
: ফাদার, আমি একটি মুরগি চুরি করেছিলাম। সেটা নিয়ে আপনি আমাকে পাপমুক্ত করবেন?
: না, এভাবে হয়না, তুমি যার মুরগি তাকে ফেরত দিয়ে আসো।
: ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু মুরগির মালিক ফেরত নিতে চায় না।
: সে ক্ষেত্রে তুমি পাপমুক্ত। কারণ তুমি মুরগির মালিককে ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করেছিলে।
মুরগিচোর খুশিমনে মুরগি নিয়ে বাড়ি চলে গেল। ওদিকে পাদ্রি বাড়ি ফিরে দেখেন তাঁর মুরগিটি নেই।



২৬-

ষাট মাইল স্পিডে সাইকেল

এক তরুন সাইকেলে চড়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ তার সাইকেলের চেইনটা ছিঁড়ে গেল। কী করবে ভাবছে। এমন সময় তার বন্ধু গাড়ি চালিয়ে সেখানে উপস্থিত হল এবং বিপদগ্রস্থ বন্ধুকে সাইকেলে চড়তে বলে সাইকেলটা একটা সরু দড়ি দিয়ে গাড়ির পিছনের দিককার বাম্পারের সঙ্গে বেঁধে নিল। তারপর আস্তে আস্তে গাড়ি চালাতে লাগল। ইতোমধ্যে এক আধুনিকা একটি স্পোর্টস কার চালিয়ে তার গাড়িকে ওভারটেক করে চলে গেল। গাড়ি চালক বন্ধু সবকিছু ভুলে মেয়েটিকে পেছনে ফেলার চেষ্টায় স্পিড বাড়িয়ে দিল। সাইকেলে আরোহী বন্ধু বিপন্ন হয়ে ঘন ঘন বেল দিতে লাগল। এ অবস্থায় তারা একটি পুলিশ-বক্স অতিক্রম করল। সেই পুলিশ বক্স থেকে একজন পরবর্তী পুলিশ-বক্সে ফোন করল- হাইওয়ে দিয়ে একটি মেয়ে ষাট মাইল স্পিডে একটা টয়োটা চালাচ্ছে- ওকে ছেড়ে দাও। ওদের পেছনে আরেক ছোকরা ষাট মাইল স্পিডে সাইকেল তো চালাচ্ছেই-তারপরই সাইড দেবার জন্য ঘন ঘন বেল বাজাচ্ছে- ওই ছোকরাকে ধর।



২৭-

জোঁকে কুপোকাত

হাত বা পায়ের ছাপ, ফেলে যাওয়া ছোরা, এমনকি আধখাওয়া সিগারেটের টুকরোর সূত্র ধরে অপরাধী শনাক্ত করার ঢের নজির রয়েছে। কিন্তু একটি জোঁক থেকে অপরাধীকে ধরা! সে কি যে সে কথা! সাত বছর আগে ডাকাতি হওয়া তাসমানিয়ার একটি গ্রাম থেকে পুলিশ জোঁকটি সংগ্রহ করে। নাদুসনুদুস জোঁকটির পেট চিরে বের করা হয় রক্ত, তারপর করা হয় ডিএনএ পরীক্ষা। ব্যস, মিলে যায় একজনের সঙ্গে। সেই লোকও ছিল জেলেই। পরে অবশ্য সে স্বীকার করেছে, ডাকাতির সময় একটি জোঁক তাকে কামড়েছিল।



২৮-শেষ ইচ্ছা
ফায়ারিং স্কোয়াডে নেওয়া হলো এক কুখ্যাত খুনিকে। গুলি করে মারার আগে তাকে জিজ্ঞেস করা হলো তার শেষ ইচ্ছা কিছু আছে কি না। সে বলল-আছে।
‘কী সেটা?’
‘আমাকে একটি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট দেওয়া হোক।’



২৯-

সুপারম্যান বের হয়নি

একটি বাচ্চা মন খারাপ করে একটি ভিডিও দোকানের সামনে বসে আছে। এক পুলিশ সেটা দেখে জিজ্ঞেস করল, ‘কী হয়েছে? মন খারাপ কেন?’
বাচ্চাটি কাঁদো কাঁদোভাবে বলল, ‘সুপারম্যান এখনো বের হয়নি।’
‘দাঁড়াও, আমি দেখছি ব্যাপারটা’, সঙ্গে সঙ্গে বলল পুলিশ। তারপর চিৎকার করে বলতে থাকল, ‘এই যে সুপারম্যান! তাড়াতাড়ি বের হয়ে এসো, তোমার বাচ্চা কান্না করছে।’



30আম গাছে তুলে রাখছি
আম চুরি করতে একটি ছেলে গাছে উঠেছে। গাছের মালিক হাতেনাতে তাকে ধরে ফেলল।
‘ওই বদমাশ, আমার আমগাছে কী করছিস?’ ‘ইয়ে··· আঙ্কেল··· মানে কয়েকটি আম মাটিতে পড়েছিল, ওগুলো গাছে তুলে রাখছি।’


৩১-

চোরাচালান

সীমান্ত এলাকায় এক লোক প্রায়ই সাইকেলে চেপে পিঠে দুটি বস্তা নিয়ে সীমান্ত পার হয়। সেনারা প্রতিদিন লোকটিকে থামিয়ে বস্তা দুটি খুলে তল্লাশি করে।
সব সময়ই দেখা যায়, বস্তায় শুধু বালু। লোকটিও অসংখ্যবার বালু আনা-নেওয়া করল এভাবে সাইকেলে চড়ে। অবশেষে একদিন তাকে আর দেখা গেল না। বহু দিন পর সীমান্তের এক সেনা ছুটি কাটাতে শহরে এসে দেখে, ওই লোকটি সামনে দিয়ে যাচ্ছে। সেনাটি বলল, ‘এই যে, আপনি! আমরা নিশ্চিত ছিলাম, আপনি কিছু চোরাচালান করছেন। কিন্তু কখনো বালু ছাড়া কিছুই তো আমরা পাইনি! বলুন তো, আসলে আপনি কী চোরাচালান করতেন?’
লোকটা বলল, ‘সাইকেল।’



৩২-সব বাজিয়ে নিতে বলেছে
গৃহকর্তাঃ (ঘুমের ঘোরে) কে ওখানে?
চোরঃ আমি হ্যাবলা চোর।
গৃহকর্তাঃ ওখানে কী করিস?
চোরঃ চুরি করছি।
গৃহকর্তাঃ চুরি করবি তো হারমোনিয়াম বাজাচ্ছিস কেন?
চোরঃ আমাদের সর্দার যা নেব সব বাজিয়ে (পরখ করে) নিতে বলেছে। তাই হারমোনিয়াম বাজিয়ে নিচ্ছি।


৩৩-

লোকসান কার হতো

বাজারে ভাল দাম না পাওয়ায় বলদ বিক্রি না করেই কৃষক তার বলদটাকে নিয়ে বাড়ি ফিরছে । এদিকে বলদ বিক্রিও টাকা ছিনতাই করতে পথে ঘাপটি মেরেও বসেছিল এক ছিনতাইকারী ।
ছিনতাইকারীঃ কী ব্যাপার, বলদ বিক্রি না করেই ওটাকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে এলে যে ?
কৃষকঃ ভাল দাম ওঠেনি তাই ।
ছিনতাইকারীঃ কম দামেও তো বিক্রি করতে পারতি , লোকসান কি তোর হতো, নাকি আমার?



৩৪-

খুব ব্যস্ত

কর্ডলেস টেলিফোনে ক্রিং ক্রিং। রিসিভার ওঠাল এক শিশু। তারপর ফিসফিস করে বলল, হ্যালো।
–হ্যালো, তোমার বাবা বাড়ি আছে?
–আছে, কিন্তু সে ব্যস্ত।-ফিসফিস করে বলল শিশুটি।
–মা আছে?
–হ্যাঁ, মা আছে। কিন্তু মাও ব্যস্ত।-আবার ফিসফিসে কণ্ঠ।
–তাহলে কার সঙ্গে কথা বলব? বাড়িতে আর কেউ আছে?
–আছে। পুলিশ কাকুরা আছে, দমকল কাকুরা আছে।
–তাহলে অন্তত তাদের কাউকে দাও। খুব জরুরি কথা আছে।
–তাদেরও ডাকা যাবে না। তারাও খুব ব্যস্ত।
–হায় ঈশ্বর! কী নিয়ে তারা এত ব্যস্ত?
–আমি লুকিয়ে আছি। সবাই আমাকে খুঁজছে।



৩৫-ঘরে কেউ ঢুকবে না
এক গরিব লোকের ঘরে চোর এসে আতিপাতি করে খুঁজে, নিয়ে যাওয়ার মতো কিছুই পেল না। হতাশ হয়ে চোর যখন চলে যাচ্ছে-
লোক : (শুয়ে শুয়ে) দরজাটা বন্ধ করে যেও।
চোর : (দীর্ঘশ্বাস ফেলে) দরজা খোলা থাকলেও সমস্যা নেই। আপনার ঘরে কেউ ঢুকবে না।




বাংলা কৌতুক গোপাল ভাঁড়

১-রাম নাম জপলে ভূত ছাড়ে

বেড়াতে বেরিয়ে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র একবার গোপালের হাত চেপে ধরে আস্তে আস্তে মোচড়াতে লাগলেন।
গোপাল: আমার হাত নির্দোষ, ওকে রেহাই দিন।
রাজা: জোর করে ছাড়িয়ে নাও।
গোপাল: সেটা বেয়াদবি হবে।
রাজা: উহু, তাহলে হাত ছাড়ব না।
গোপাল তখন যে রোগের যে দাওয়াই বলে রাম নাম জপতে থাকলেন।
রাজা: এতে কি আর কাজ হবে? দাওয়াই কোথায়?
গোপাল: রাম নাম জপাই তো মোক্ষম দাওয়াই।
রাজা: মানে?
গোপাল: পিতামহ, প্রপিতামহের আমল থেকে শুনে আসছি, রাম নাম জপলে ভূত ছাড়ে।
রাজা গোপালের হাত ছেড়ে দিলেন সঙ্গে সঙ্গে।


২-

এখন গোপাল ভাঁড়

গোপাল ভাঁড়ের গল্প চিরনবীন। কারণ বাঙালিজীবনে অসংগতি, পাগলামো, পরিমিতিবোধের অভাব, রঙ্গরসিকতা ইত্যাদি থাকবেই। আর গোপাল ভাঁড়ও তাই থাকবেন।
গোপাল ভাঁড়ের এই গল্পটা আপনারা জানেন। রাজা বললেন, শীতের রাতে কেউ কি সারা রাত এই পুকুরে গলাপানিতে ডুবে থাকতে পারবে? যদি কেউ পারে, আমি তাকে অনেক টাকাপয়সা, ধনরত্ন পুরস্কার দেব।
এক ছিল গরিব দুঃখী মানুষ। সে বলল, আমি পারব।
সে মাঘ মাসের তীব্র শীতে সারা রাত পুকুরের পানিতে গলা ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ভোরের বেলা সে উঠল পানি থেকে।
রাজার কাছে গিয়ে সে বলল, আমি সারা রাত পুকুরের পানিতে ছিলাম। আপনার সান্ত্রী-সেপাই সাক্ষী। এবার আমার পুরস্কার দিন।
রাজা বললেন, সেকি, তুমি কেমন করে এটা পারলে!
গরিব লোকটা বলল, আমি পানিতে সারা রাত দাঁড়িয়ে রইলাম। দূরে, অনেক দূরে এক গৃহস্থবাড়িতে আলো জ্বলছে। আমি সেই দিকে তাকিয়ে রইলাম। সারা রাত কেটে গেল।
মন্ত্রী বলল, পাওয়া গেছে। এই যে দূরের প্রদীপের আলোর দিকে ও তাকিয়ে ছিল, ওই প্রদীপ থেকে তাপ এসে তার গায়ে লেগেছে। তাই তার পক্ষে সম্ভব হয়েছে এই শীতেও ওই পুকুরে গলা পর্যন্ত ডুবিয়ে রেখে দাঁড়িয়ে থাকা।
রাজা বললেন, তাই তো! তাহলে তো তুমি আর পুরস্কার পাও না। যাও। বিদায় হও।
গরিব লোকটা কাঁদতে কাঁদতে বিদায় নিল। সে গেল গোপাল ভাঁড়ের কাছে। অনুযোগ জানাল তাঁর কাছে। সব শুনলেন গোপাল ভাঁড়।
তারপর গোপাল ভাঁড় বললেন, ঠিক আছে, তুমি ন্যায়বিচার পাবে।
গোপাল ভাঁড় দাওয়াত করলেন রাজাকে। দুপুরে খাওয়াবেন। রাজা এলেন গোপাল ভাঁড়ের বাড়ি। গোপাল ভাঁড় বললেন, আসুন আসুন। আর সামান্যই আছে রান্নার বাকি। কী রাঁধছি দেখবেন, চলেন।
গোপাল ভাঁড় রাজাকে নিয়ে গেলেন বাড়ির পেছনে। সেখানে একটা তালগাছের ওপর একটা হাঁড়ি বাঁধা আর নিচে একটা কুপিবাতি জ্বালানো।
গোপাল ভাঁড় বললেন, ওই যে হাঁড়ি, ওটাতে পানি, চাল, ডাল, নুন সব দেওয়া আছে। এই তো খিচুড়ি হয়ে এল বলে। শিগগিরই আপনাদের গরম গরম খিচুড়ি খাওয়াচ্ছি।
রাজা বললেন, তোমার বাড়িতে দাওয়াত খাব বলে সকাল থেকে তেমন কিছু খাইনি। খিদেয় পেট চোঁ চোঁ করছে। এখন এই রসিকতা ভালো লাগে!
রসিকতা কেন, রান্না হয়ে এল বলে।
রাজা বললেন, তোমার ওই খিচুড়ি জীবনেও হবে না, আমার আর খাওয়াও হবে না। চলো মন্ত্রী, ফিরে যাই।
গোপাল বললেন, মহারাজ, কেন খিচুড়ি হবে না। দূরে গৃহস্থবাড়িতে জ্বালানো প্রদীপের আলো যদি পুকুরের পানিতে ডুবে থাকা গরিব প্রজার গায়ে তাপ দিতে পারে, এই প্রদীপ তো হাঁড়ির অনেক কাছে। নিশ্চয়ই খিচুড়ি হবে।
রাজা তার ভুল বুঝতে পারলেন। বললেন, আচ্ছা পাঠিয়ে দিয়ো তোমার ওই গরিব প্রজাকে। ওর প্রতি আসলেই অন্যায় করা হয়েছে। ওকে ডাবল পুরস্কার দেব।
সে তো আপনি দেবেনই। আমি জানতাম। আসুন, ঘরে আসুন। দুপুরের খাওয়া প্রস্তুত।
তারপর রাজা সত্যি সত্যি গরিব লোকটাকে অনেক পুরস্কার দিয়েছিলেন।
আজকের দিনে গোপাল ভাঁড় শারীরিকভাবে নেই। কিন্তু তার রসিকতাগুলো রয়েই গেছে।
আগুন লাগানো বিষয়ে সম্প্রতি তেমনই একটা রসিকতা করা হয়েছে। এই রসিকতা শুনে দেশের মানুষ এমন অট্টহাসি দিয়েছে যে সবার মন ভালো হয়ে গেছে।
সংবাদপত্রে কোনো খবর প্রকাশিত হলে যে-কেউই রুষ্ট হতে পারেন। সব খবর সবার পক্ষে যাবে না। যে-কেউ যেকোনো খবরকে প্র্রতিবাদযোগ্য বলেও মনে করতে পারেন। খবর সত্য, নাকি মিথ্যা, এ সম্পর্কে মুখ না খুলে খবরের কাগজের সম্পাদক বা মালিকদের বিরুদ্ধে উল্টো অন্য অপ্রাসঙ্গিক অভিযোগ তোলা যে খুবই অভিনব একটা ঘটনা, সেটা সবাই স্বীকার করবেন। কিন্তু অভিযোগটা কী হবে, সেটা নিশ্চয়ই একটু ভেবে ঠিক করা দরকার ছিল।
এখন দেশের মানুষ বলাবলি করছে, ওই আলোচিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি বলেছিল, যাদের অফিস, তারাই তদন্তকাজে সহযোগিতা করেনি বলে ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন করা যায়নি। কেঁচো খুঁড়তে কেউটে সাপ না বেরিয়ে যায়! অন্যের জন্য কুয়ো খুঁড়ে না সেই কুয়োতে উল্টো পড়ে যেতে হয়।
ওই ঘটনায় মানুষের মৃত্যুও হয়েছিল। যার বাড়ি, তার সহযোগিতার অভাবে তদন্ত করা যায়নি বলে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। কারণ যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের জীবন তো ফিরিয়ে দিতে পারবে না কেউ। এখন দেশের মানুষ চায়, নিরপেক্ষ কিন্তু দক্ষ আইনানুগ কর্তৃপক্ষ ওই আলোচিত অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে। উদ্ঘাটন করুক আসলে কারা ঘটিয়েছিল ওই অগ্নিকাণ্ড। কেন ঘটিয়েছিল।
গোপাল ভাঁড়ের কাণ্ডকারখানার উদ্দেশ্য থাকত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। তার মাধ্যমে লোকে হাস্যরসও পেত, কিন্তু সেটা বাহ্য। এই আলোচিত অগ্নিসংযোগের অভিযোগ যথেষ্ট হাস্যরস সৃষ্টি করেছে, এবার দরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।

৩-

বলদের মতো চারটা পা

গোপালের তখন বয়স হয়েছে। চোখে ভালো দেখতে পারে না। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র বললেন, কী গোপাল, গতকাল আসনি কেন?
—আজ্ঞে চোখে সমস্যা হয়েছে। সবকিছু দুটো দেখি। কাল এসেছিলাম। এসে দেখি দুটো দরবার। কোনটায় ঢুকব, ভাবতে ভাবতেই…।
—এ তো তোমার জন্য ভালোই হলো। তুমি বড়লোক হয়ে গেলে। আগে দেখতে তোমার একটা বলদ, এখন দেখবে দুটো বলদ।
—ঠিকই বলেছেন মহারাজ। আগে দেখতাম আপনার দুটো পা, এখন দেখছি চারটা পা…ঠিক আমার বলদের মতোই!

৪-

নাম ধরে ডাকছি, কারণ…

গোপাল ভাঁড় একবার তার ছেলেকে নিয়ে মেলায় বেড়াতে গিয়ে ছেলেকে হারিয়ে ফেলে। ছেলে তখন একটুও না ঘাবড়ে ‘গোপাল, গোপাল’ বলে চেঁচাতে থাকে। ছেলের চিৎকার শুনে গোপাল ছুটে এসে ধমক দেয় ছেলেকে, ‘ছিঃ ছিঃ, আমার নাম ধরে ডাকছিস, বাবা বলে ডাকতে পারিস না?’
ছেলে তখন বলল, ‘হুঁ, বাবা বলে ডাকি আর মেলার সব লোক ছুটে আসুক!’



৫-

জানুক পাড়ার লোকে

গোপাল একবার গ্রামের মোড়ল হয়েছিল। তো একদিন ভোরবেলায় এক লোক এসে ডাকতে লাগল, ‘গোপাল? গোপাল?’ গোপাল ভাঁড় কোনো উত্তর না দিয়ে শুয়েই রইল। এবার লোকটা চিৎকার করে ডাকতে লাগল, ‘মোড়ল সাহেব, মোড়ল সাহেব।’ এবারও গোপাল কোনো কথা না বলে মটকা মেরে শুয়ে রইল। গোপালের বউ ছুটে এসে বলল, ‘কী ব্যাপার, লোকটা মোড়ল সাহেব মোড়ল সাহেব বলে চেঁচিয়ে পড়া মাত করছে, তুমি কিছুই বলছ না!’ গোপাল কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, ‘আহা, ডাকুক না কিছুক্ষণ, পাড়ার লোকজন জানুক আমি মোড়ল হয়েছি।’


৬-

বিশ্বাস

গোপাল যাচ্ছে শ্বশুরবাড়ি। মাথার ওপর গনগনে সূর্য। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে গোপাল এক গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে বসল। বেশি গরম লাগায় ফতুয়াটা খুলে পাশে রেখে একটু আয়েশ করে বসল। বসে বিশ্রাম নিতে নিতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ল, নিজেই জানে না।
ঘুম যখন ভাঙল গোপাল দেখে, তার ফতুয়াটা চুরি হয়ে গেছে। হায় হায়! এখন কী হবে! খালি গায়ে তো আর শ্বশুরবাড়ি ওঠা যায় না। কী আর করা। সে হাঁটতে হাঁটতে মনে মনে বলতে লাগল, ‘হে ভগবান, রাস্তায় অন্তত ১০টি মুদ্রা যেন কুড়িয়ে পাই, তাহলে পাঁচ মুদ্রায় আমার জন্য একটা ভালো ফতুয়া কিনতে পারি। আর তোমার জন্য পাঁচটি মুদ্রা মন্দিরে দান করতে পারি···।’ আর কী আশ্চর্য! ভাবতে ভাবতেই দেখে, রাস্তার ধারে কয়েকটি মুদ্রা পড়ে আছে। খুশি হয়ে উঠল গোপাল, গুনে দেখে পাঁচটি মুদ্রা! গোপাল স্বগত বলে উঠল, ‘হে ভগবান, আমাকে তোমার বিশ্বাস হলো না, নিজের ভাগটা আগেই রেখে দিলে?


৭-

সাবধান থাকবে

রামবাবুর সাথে গল্প করতে করতে গোপালের খুব তেষ্টা পেয়েছে। সে ওর ভৃত্যকে ডেকে ঠাস ঠাস তিনটে চড় লাগিয়ে দিয়ে বলছে, ‘যা এক ঘটি জল নিয়ে আয়! ঘটি যেনো না ভাঙে।’ ব্যাপার দেখে রামবাবু বলছে, ‘গোপাল, ঘটি ভাঙার আগেই ওকে চড় মেরে বসলে যে?’ গোপাল জবাব দিচ্ছে, ‘আরে ভেঙে ফেলার পর মেরে কি আর লাভ আছে? এর চেয়ে আগেই মেরে দিলাম। সাবধান থাকবে।’



8-

মুখে প্রস্রাব

গোপাল বেয়াই-বেয়াইনের সাথে বেড়াতে গিয়ে এক ঝোপের আড়ালে প্রস্রাব করতে বসেছে। বেয়াই বলছে, ‘গোপাল উত্তর দিকে মুখ করে প্রস্রাব করছো, ওদিকে মুখ করে প্রস্রাব করা শাস্ত্রে মানা আছে।’ আবার বেয়াইন বলছে, ‘দক্ষিণ দিকে মুখ করে প্রস্রাব করাও শাস্ত্রে মানা।’ শুনে গোপাল বলছে, ‘আমরা ছোট মানুষ, বেয়াই যেই মুখ বললেন সেই মুখেও প্রস্রাব করি, আবার বেয়াইন যেই মুখ বললেন সেই মুখেও করি।’

৯-

চিঠি লেখা এবং পায়ে ব্যথা

একদিন এক প্রতিবেশী গোপাল ভাঁড়ের কাছে এসে :
‘আমাকে একটা চিঠি লিখে দাও।’
‘আমি চিঠি লিখতে পারবো না, আমার পায়ে ব্যথা।’
প্রতিবেশী আশ্চর্য হয়ে বললো, ‘চিঠি তো লিখবে হাত দিয়ে, পায়ে ব্যথা তাতে কী হয়েছে?’
‘কারণ আমি অতোদূর হেঁটে যেতে পারবো না।’
‘অতোদূর হাঁটতে পারবে না মানে?’
‘মানে আমার লেখা চিঠি আমি ছাড়া আর কেউ পড়তে পারবে না। আমার হাতের লেখা খুব খারাপ তো। যাকে চিঠি পাঠাবে, তাকে তো আমাকেই পড়ে দিয়ে আসতে হবে, তাই না? পায়ে ব্যথা নিয়ে যাবো কিভাবে?’


10-

নিখোঁজ!

আব্দুল করিম সাহেবের বাসার সামনের গাছতলায় আড্ডা হচ্ছে। ঠিক আড্ডা বলা যাবে না, জটিল গবেষণা হচ্ছে বলা যায়। কারণ আব্দুল করিম সাহেব নিখোঁজ। পয়লা বৈশাখ থেকেই তিনি নিখোঁজ। তাঁকে নাকি পয়লা বৈশাখের কালবোশেখি ঝড় উড়িয়ে নিয়ে গেছে।
- তুমি ঠিক দেখেছ উনাকে কালবোশেখি ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে গেছে?
- অবশ্যই। আমরা দুজন একসঙ্গে বাজার করলাম···
- তারপর?
- তারপর তিনি একটা ইলিশ কিনলেন, আমি কিনলাম বোয়াল···বউ বলেছিল বোয়ালের সঙ্গে লাউ কিনতে···
- উফ! শটকাটে বলো।
- তিনি ইলিশ কিনে বের হলেন···
- আচ্ছা তিনি হঠাৎ করে ইলিশ কিনলেন কেন? আরেকজন জানতে চায়।
- বাহ্‌, পয়লা বৈশাখ···পান্তা-ইলিশের একটা ব্যাপার আছে না?
- কিন্তু তিনি তো একা মানুষ।
- একা হলে কী হয়েছে, শখ-আহ্লাদ থাকতে পারে না?
- আহ্‌, আপনারা মূল প্রসঙ্গে আসুন। তারপর কী হলো?
- তারপর শুরু হলো কালবোশেখি ঝড়···তিনি দৌড়ে ঠিক এই গাছতলায় ছুটে এসে দাঁড়ালেন। আর আমি মোক্তারদের বাসার গেটে আশ্রয় নিলাম···তখনই ৮০ মাইল স্পিডে একটা দমকা হাওয়া···হঠাৎ দেখি উনি নাই···
- ৮০ মাইল স্পিড তুমি কী করে বুঝলে?
- আরে বোঝা যায়। ঝড় তো আর কম দেখলাম না।
- কিন্তু খুব শিগগির কি আশপাশে মাংস-বৃষ্টি হয়েছে?
এলাকার ব্রেনওয়াশ কোচিং সেন্টারের পরিচালক মোতাব্বের জানতে চান।
- মাংস-বৃষ্টি?
- হ্যাঁ।
- কেন, মাংস-বৃষ্টি হবে কেন?
- হয় হয়। এগুলো বিজ্ঞানের কথা, আপনারা বুঝবেন না। ঝড় যদি মানুষ, গরু, ছাগল উড়িয়ে নিয়ে যায় আকাশে, তাহলে দুই দিন পর মাংস-বৃষ্টি হয়। কেন, মনে নেই, একবার খবরের কাগজে বের হলো ‘কুমিল্লায় মাংস-বৃষ্টি’।
বিষয়টা ব্রেনওয়াশ কোচিং সেন্টারের পরিচালক ব্যাখ্যা করলেন সবার কাছে-ঝড় যখন কাউকে উড়িয়ে নিয়ে যায় তখন ঝড়ের দমকা বাতাসের ঘূর্ণির মধ্যে পড়ে মানুষটা (বা প্রাণীটাও হতে পারে) ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়···ঝড়ের কেন্দ্রে যে চোখ থাকে, তার আশপাশেই সেই ভয়ানক ঘূর্ণি···বাতাসের চক্রের মতো আর কি!
বিষয়টা সম্পর্কে ব্রেনওয়াশ কোচিং সেন্টারের পরিচালকের ব্যাখ্যা শুনে সবাই টাসকি খেয়ে যায়। তবে না, সবাই একমত যে এখনো কোথাও মাংস-বৃষ্টির কথা কোনো খবরের কাগজে বের হয়নি।
- তাহলে তিনি এখনো বাতাসের ঘূর্ণির মধ্যেই আছেন?
- মানে?
- মানে ওই যে বললাম, ঝড়ের কেন্দ্রে যে চোখ থাকে তার চারপাশের বাতাসের ঘূর্ণির মধ্যে ঘুরছেন, হয়তো এখনো ছিন্নভিন্ন হননি। তবে বাতাসের ঘূর্ণিত চক্রের মধ্যেই ঘুরছেন।
- ঘূর্ণিত চক্র?
- আচ্ছা আকাশের কোন স্তরে এই চক্র? আরেকজন অতি উৎসাহী জানতে চান।
- বলা মুশকিল, মনে হয় তৃতীয় স্তরে,
ট্রাটোস্কেয়ারে হতে পারে···ঝড়ঝক্কা তো সব ওই স্তরেই হয় বলে শুনেছি।
- আচ্ছা, উনার কাছে কি মোবাইল ফোনসেট ছিল?
আরে তাই তো, উনার মোবাইলে একটা ফোন দিলেই তো হয়। সবাই হায় হায় করে উঠল, এই সামান্য বুদ্ধিটা কারও মাথায় আসেনি কেন? তাঁর মোবাইল ফোন নম্বরটা কত?
দেখা গেল তাঁর মোবাইল ফোন নম্বরটা কারও কাছে নেই। আশ্চর্য, এলাকার একজন চিরকুমার, সবার সুখে-দুঃখে এগিয়ে আসেন, অথচ তাঁর মোবাইল নম্বরটা কারও কাছে নেই? এটা হতে পারে না। উপস্থিত আড্ডার সবাই ভেতরে ভেতরে অত্যন্ত লজ্জিত হলেন বলে মনে হলো।
তবে না, পরদিন এলাকার মোবাইল ফোন ফ্লেক্সিলোড সেন্টারে খোঁজখবর করে তাঁর নম্বরটা বহু কষ্টে পাওয়া গেল এবং ফোন দেওয়া হলো সঙ্গে সঙ্গেই···রিং হচ্ছে··· রিং হচ্ছে···কিন্তু ধরছে না। আবার করা হলো। এবারও রিং হচ্ছে, রিং হচ্ছে···ধরছে না কেউ!
অবশ্য ট্রাটোস্কেয়ারে ঘুরন্ত অবস্থায় বাতাসের ঘূর্ণিত চক্রে কি উনি ফোন রিসিভ করতে পারবেন? কিংবা নেটওয়ার্ক থাকবে ওখানে? বলা মুশকিল। দান দান তিন দান। তৃতীয়বারের বার কেউ ফোন ধরল বলে মনে হলো।
- ধরছে···ধরছে···হ্যালো?
- কে? (করিম সাহেবের গলা)
- ক-করিম সাহেব, আপনি কোথায়?
- আমি চক্রে।
- সর্বনাশ!···উনি সত্যি সত্যিই বাতাসের ঘূর্ণিত চক্রের মধ্যে পড়েছেন···
- দেখলেন, বলেছিলাম না? বিজ্ঞের হাসি দিয়ে ব্রেনওয়াশ কোচিং সেন্টারের পরিচালক মোতাব্বের মোবাইল ফোনসেটটা এক রকম ছিনিয়েই নেন।
- আপনি এখন কোন স্তরে?
- তৃতীয় স্তরে উঠেছিলাম, কিন্তু তোমাদের কারণে আর পারলাম না···বলে ফোনের সংযোগ কেটে দিলেন আব্দুুল করিম সাহেব।
- মনে হয় এই মাত্র তিনি ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলেন···চিন্তিত ভঙ্গিতে বললেন ব্রেনওয়াশ কোচিং সেন্টারের পরিচালক। অন্যরা হায় হায় করে উঠলেন। এলাকার একজন সুসন্তান আমরা হারালাম।
আর তখনই করিম সাহেবের দরজায় শব্দ হলো। সবাই মাথা ঘুরিয়ে তাকিয়ে দেখেন, তিনি, মানে আব্দুল করিম সাহেব দরজা খুলে বের হয়ে আসছেন। গায়ে গেরুয়া রঙের একটা চাদর, হাতে মোবাইল ফোনসেট। ভ্রূ জোড়া অতিমাত্রায় কুঞ্চিত, বিরক্ত।
বলাই বাহুল্য, তিনি মেডিটেশনে বসেছিলেন। গামা আলফা লেভেল পার হয়ে তামা লেভেলে···প্রায় পৌঁছেও গিয়েছিলেন কিন্তু পাড়ার ছেলেপেলের জন্য এ যাত্রায় সম্ভব হলো না।


১১-

ঈশ্বরের সেবা

একজন বৈরাগী গোপালকে চিনত না। সে গোপালের সামনে এসে বলল, “ঈশ্বরের সেবার জন্য আপনি কিছু চাঁদা দেবেন?”
গোপাল কিছু না বলে বৈরাগীকে একটা টাকা দিল।
টাকাটা পেয়ে বৈরাগী খুশি হয়ে পথ হাঁটতে লাগল। কিছুটা যেতেই গোপাল তাকে ডাকল, “ও বৈরাগী, একবারটি আমার কাছে এসো।”
বৈরাগী খুশিমনে তার কাছে আসলে গোপাল বলল, “তোমার বয়স কত?”
“আঠারো আজ্ঞে।”
“আমার বয়স পঞ্চান্ন।”
“তাতে কি হল?”
“এইমাত্র ঈশ্বরের সেবার জন্য যে একটা টাকা নিয়েছ সেটা ফেরত দাও, কারণ তোমার আগেই আমি স্বর্গে যাব এবং ঈশ্বরের সেবার সুবর্ণ সুযোগ পাব।”




১২-

মুখোমুখি

গোপাল একবার তার দুই বেয়াই-এর সাথে এক জায়গায় যাচ্ছিল। পথের ধারে দক্ষিণমুখো হয়ে সে প্রস্রাব করতে বসলে এক বেয়াই বলল, “আরে করেন কি, আপনি জানেন না, দিনের বেলা দক্ষিণমুখো হয়ে প্রস্রাব করতে নেই, শাস্ত্রে নিষেধ আছে যে!”
অপর বেয়াই বলল, “শুনেছি উত্তরমুখো হয়েও নাকি ওই কাজটি করতে নেই।”
গোপাল বলল, “ওসব পন্ডিতলোকদের বচন, আমি গাঁইয়া মুখ্যুসুখ্যু মানুষ, ওসব বাছবিছার আমি করি না, সব মুখেই প্রস্রাব করি। বড় বেয়াই যে মুখে বললেন সে মুখে করি আর ছোট বেয়াই যে মুখে বললেন সে মুখেও করি।”
গোপালের মুখের কথা শুনে বেয়াইদের মুখে আর কথা নেই।




১৩-

কাশীতে মৃত্যু

গোপালের জ্যোতিষ চর্চার খ্যাতি শুনে দূর গ্রাম থেকে হাত দেখাতে এসেছেন এক ভদ্রলোক।
গোপাল খুব ঘটা করে হাত-টাত দেখে বলে, ‘আপনি তো অতি ভাগ্যবান মশাই! হাতে স্পষ্ট দেখছি আপনার দেহাবসান হবে কাশীতে।’
পূণ্যস্থানে মৃত্যু হবে জেনে ভদ্রলোক খুব খুশি মনে ফিরে গেলেন।
কিছুদিন যেতে না যেতেই ভদ্রলোকের ছেলে এসে উপস্থিত। সে তেড়েফুঁড়ে গোপালকে জিজ্ঞেস করে, ‘আপনি গননা করে বলেছিলেন বাবার মৃত্যু হবে কাশীতে। কই, উনি তো বাড়িতেই মারা গেলেন?’
গোপাল আমতা আমতা করে বলে, ‘আমি কি তাই বলেছি নাকি? আমি বলতে চেয়েছি উনি কাশতে কাশতে মারা যাবেন। তা সেটা ঠিক বলেছি কি-না? বলুন?’



১৪-

কুকুর কার?

মন্দিরে ঢুকতে যাবার সময় পেছন থেকে পন্ডিতের বাঁধা, ‘এ তুমি কী করছো গোপাল! মন্দিরে কুকুর নিয়ে ঢুকছো?’
‘কোথায় কুকুর?’ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে গোপাল।
‘এই তো তোমার পেছনে!’ একটি কুকুরের দিকে হাত তুলে দেখায় পন্ডিত।
‘এটি আমার কুকুর নয়!’
‘তোমার নয় বললেই হলো?’ রাগ দেখিয়ে বলে পন্ডিত, ‘তোমার পেছন পেছনেই তো যাচ্ছে!’
‘বটে? তা তুমিও তো আমার পেছন পেছন আসছো!’



১৫-

মাছি

মিষ্টির দোকানের পাশ দিয়ে যাবার সময় থরে থরে সাজানো মিষ্টি দেখে গোপালের খুব লোভ হয়েছে। কিন্তু ট্যাকে নেই একটি পয়সাও।
ভেতরে গোপাল ঢুকে দেখে ময়রার ছোট ছেলেটি বসে আছে।
গোপাল শুধায়, ‘কি-রে, তোর বাপ কই?’
‘পেছনে। বিশ্রাম নিচ্ছে।’
‘তোর বাপ আমি আমি খুব বন্ধু বুঝলি? আমার নাম মাছি। ক’টা মিষ্টি খাই? তোর বাপ কিচ্ছু মনে করবে না।’ বলেই গোপাল টপাটপ মিষ্টি মুখে পুরতে শুরু করেছে।
মিষ্টি নিমিষে শেষ হয়ে যাচ্ছে দেখে ছেলে চেঁচিয়ে বলে বলে, ‘বাবা, মাছি কিন্তু সব মিষ্টি খেয়ে ফেলছে!’
শুনে পেছন থেকে ময়রা বলে, ‘আরে খেতে দে! মাছি আর কট্টুকু খাবে?’



১৬-তিলক
এক পন্ডিতের মাথায় তিলকের ঘটা দেখে গোপাল খুব আমোদ পেয়ে জিজ্ঞেস করেছে, ‘ওহে পন্ডিত, কপালে এতো সব কি এঁকেছো?’
পন্ডিত একগাল হেসে বলে, ‘আজ্ঞে, ফোঁটা কাটুচি!’
গোপাল উদাত্ত গলায় ফের শুধায়, ‘ফোঁটা কাটুচি, না কাগে হাগুচি?’


১৭-চেহারায় মিল
রাজা কৃষ্ণচন্দ্র সব সভাসদদের সামনে গোপালকে জব্দ করার উদ্দেশ্যে বলছেন, ‘বুঝলে গোপাল, আমার সাথে তোমার চেহারার কিন্তু দারুণ মিল! তা বাবার শাসনামলে তোমার মা কি এদিকে আসতেন-টাসতেন নাকি?’
গদগদ হয়ে গোপাল বলে, ‘আজ্ঞে না রাজামশাই! তবে মা না এলেও বাবা কিন্তু প্রায়শই আসতেন


১৮-

গোপালের উপবাস

গোপাল তখন ছোট। গুরুদেবের সাথে থেকে দীক্ষা নিচ্ছে।
কোনো এক একাদশীর দিন গোপাল দেখে উপবাস শেষে গুরুদেব ষোলো প্রকারের পদ দিয়ে সেই রকমের ভোজ দিচ্ছেন। গুরুদেবের খাবারের বহর দেখে গোপাল ঠিক করে ফেলে আগামীবার গুরুদেবের সাথে উপবাস দিতে হবে। উপবাসের অজুহাতে যদি ষোলো পদের ভোজ পাওয়া যায় তবে কষ্টের চেয়ে লাভই বেশি!
সেই পরিকল্পনা মতো সামনের একাদশীতে গোপালও গুরুদেবের সাথে উপবাস করে বসে রইলো। কিন্তু বেলা গড়িয়ে যায় গুরুদেব আর জলযোগে যান না! শেষ-মেষ ক্ষুধার জ্বালায় আর থাকতে না পেরে গোপাল জিজ্ঞেসই করে বসে, ‘গুরুদেব, বেলা হয়ে গেলো, জলযোগ করবেন না?’
গুরুদেব স্মিত হেসে বলেন, ‘ওরে আহাম্মক, আজ যে ভীম একাদশী… নিরম্বু উপবাস।’


১৯-ব্যবধান
রাজা গোপাল ভাঁড় কে প্রশ্ন করল, গাধা আর তোমার মধ্যে ব্যবধান কতটুকু? গোপাল রাজা থেকে নিজের দুরত্ব টা মেপে তারপর জবাব দিল, বেশি না, মাত্র সাড়ে চার হাত ব্যবধান।



20বিদ্যের জাহাজ
গোপালের সাথে এক ভদ্রলোকের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন রামবাবু, ‘বুঝলে গোপাল, ইনি হলেন শ্রী বিদ্যাচরণ মিশ্র। তোমার মতো অকাট মূর্খ নন, রীতিমত যাকে বলে বিদ্যের জাহাজ!’
‘তা জাহাজই যখন ডাঙায় কেনো? সাগরের জলে ভাসিয়ে দিন না!’ গোপালের সরল উত্তর।